৩৭তম বিসিএসে ১ হাজার ২২১ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চূড়ান্ত সুপারিশে নাম এলেও ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ ৯৩ জন বাদ পড়েছেন। গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
গত বছরের ১২ জুন চূড়ান্ত ফলে ১ হাজার ৩১৪ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সনদ যাচাই করা হয়। এতে ৯৩ জনকে বাদ দেওয়া হয়।
বাদ পড়াদের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পিএসসি যাদের নিয়োগের সুপারিশ করে তাদের অনেকেই চাকরি পায় না। বিশেষ করে রাজনৈতিক কারণে অনেক প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়। এবার যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক। এ ছাড়া স্বাধীনতাবিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের কয়েক কর্মীও রয়েছেন।’
অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ৭ এপ্রিল যোগদান করতে হবে। আগের বিসিএসের তুলনায় একটু কম সময়েই তথ্য যাচাইবাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। জেলাপ্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রার্থীদের তথ্য যাচাইবাছাই করেছে।’
৩৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ১ হাজার ২২৬টি পদ থাকলেও ১ হাজার ৩১৪ জনকে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এতে সাধারণ ক্যাডার ৪৬৫ জন, সহকারী সার্জন ২৭২ জন, ডেন্টাল সার্জন ৫১ জন। অন্যান্য কারিগরি পদে ৩১৬ জন এবং শিক্ষায় ২১০ জনকে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া নন ক্যাডারে অপেক্ষমাণ রাখা হয় ৩ হাজার ৪৫৪ জনকে।
২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়; শেষ হয় ২৩ মে। এতে ৫ হাজার ৩৭৯ জন পাস করেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। এতে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন ৮ হাজার ৫২৩ জন। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৩১ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন।
