কৃত্রিম টার্ফে তারকা ফুটবলারদের মিলনমেলা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ০৩:২৪ এএম

ঠিক যেন ২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পুনঃমঞ্চায়ন করলেন মোহাম্মদ সুজন। মালদ্বীপের বিপক্ষে ফাইনালে টাইব্রেকারে সে সময়ের উঠতি ডিফেন্ডার শেষ গোলটি করে বাংলাদেশকে পাইয়ে দিয়েছিলেন প্রথম উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব। গতকালও টাইব্রেকারে তার নিশানাভেদী শটে নিশ্চিত হলো জয়। নাহ, এবার জাতীয় দল নয়। সুজন জেতালেন সবুজ দলকে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাফুফের কৃত্রিম টার্ফে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে লাল দলকে সুজনদের সবুজ দল টাইব্রেকারে হারিয়েছে ৩-২ গোলের ব্যবধানে। এর আগে ম্যাচটি ছিল ২-২ গোলে অমীমাংসিত।

উপলক্ষটা ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। প্রতিবারের মতো এবারও এই উপলক্ষে বাফুফের কৃত্রিম টার্ফ পরিণত হয়েছিল সাবেক নামিদামি ফুটবলারদের এক মিলনমেলায়। আশির দশকে মাঠ কাঁপানো মহসীন, সুলতান, আসলাম, ইলিয়াস, কায়সার হামিদ, নব্বইয়ের দশকের তারকা আরিফ খান জয়, মাসুদ রানা, বেলাল, মনি, রাজ্জাক, ছোটন, জিলানী, নকীব, আলফাজ খেলেছেন লাল আর সবুজ দুই ভাগে ভাগ হয়ে। কালের স্রোতে হয়তো সেরকম মাঠ কাঁপানো রূপটা আর ছিল না। তবে এখনো নিখুঁত পাস, ড্রিবলিং, শটে তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন সোনালি অতীতের কথা। লাল দলকে শুরুতেই জোড়া গোল করে এগিয়ে নেন নকীব। প্রথমার্ধের শেষভাগে ইলিয়াস ও আলফাজ গোল করে সবুজ দলকে সমতায় ফেরান। দ্বিতীয়ার্ধে কেউই গোল না পাওয়ায় মাঠে উপস্থিত বাফুফে সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীর অনুরোধে হয় টাইব্রেকার। যেখানে জয় নিশ্চিত হয় সাবেক উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের নেতৃত্বাধীন সবুজ দলের।

ফের বুট জোড়া পায়ে পরার সুযোগ পেয়ে খুব খুশি শেখ মোহাম্মদ আসলাম। বললেন, ‘স্বাধীনতার জন্য শহীদদের এই আত্মাহুতির দিনটাকে আমাদের প্রাণভরে উপভোগ করা উচিত। ফুটবল ফেডারেশন আমাদের ডেকে যে সম্মান দিয়েছে তাতে তাদের ধন্যবাদ।’ আবাহনীর আসলামের কথা এলে চলে আসবে মোহামেডানের ডিফেন্ডার কায়সার হামিদের নাম। এ দুজনের দ্বৈরথ ঢাকার ফুটবলে একসময় ছিল অন্যতম আলোচনার বিষয়। সেই কায়সার হামিদও এমন সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাইলেন পুরনো সতীর্থদের সঙ্গে প্রাণভরে আড্ডা দিয়ে।

সম্প্রীতির ম্যাচ হলেও ৪০ মিনিটের প্রতিটি মুহূর্তে ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বয়সকে কেবল সংখ্যায় পরিণত করে এই সাবেক তারকারা খেলেছেন নিজেদের উজাড় করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত