রাজধানীর ভাষানটেক থানায় র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শফিকুল ইসলাম শফি (৩৫) নিহত হয়েছেন। র্যাবের দাবি, শফি নরসিংদীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ র্যাবকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করিয়েছে।
ভাষানটেক থানাধীন বালুঘাটে মঙ্গলবার গভীর রাতে ‘বন্দুক যুদ্ধে’ তিনি নিহত হন। র্যাব জানায়, তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র আইনসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। শফির পরিবারের দাবি, শফিকুল পেশায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ র্যাবকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করিয়েছে।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী শমসের উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বেলন, শফি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। নরসিংদীতে যত অবৈধ অস্ত্র যায় তার সবই সে সরবরাহ করে থাকে। সে পেশাদার চাঁদাবাজ এক ডজনের বেশি মামলার আসামি। সে নরসিংদীতে অপরাধ করে ঢাকায় আত্মগোপন করে থাকত।
তিনি জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র্যাব-১১ এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ভাষানটেক এলাকায় অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সে তার কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় র্যাব পাল্টা গুলি করলে ঘটনাস্থলে শফিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, র্যাব শফির দুই সহযোগীকে আটক করেছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভাষানটেক থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে এসে নিহতের লাশ শনাক্ত করেন শফির বড়বোন রাশিদা আহমেদ। তিনি নিজেকে মানবাধিকার কর্মী দাবি করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার ছোট ভাইয়ের শফিকুর রহমান শফি নরসিংদী সদর উপজেলার শাটিরপাড়া ২৭০/২ নম্বর বাসায় থাকতেন তিনি। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মুমতাজ উদ্দিন আহমেদ। নরসিংদী শহরে শফিকের রেস্টুরেন্টের ব্যবসা আছে। শফিক জেলা যুবলীগ নেতা। তবে কোন পদে ছিল তা জানাতে পারেনি। স্ত্রী উর্মি আক্তার। দুই সন্তানের জনক ছিল সে।
বোনের দাবি, তার ভাইয়ের জনপ্রিয়তা ছিল অনেক। তাকে শত্রুতামূলকভাবে হত্যা করেছে।
