নোয়াখালীতে ভোটের রাতে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ মামলায় বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জাকির হোসেন বুধবার জেলার ২ নম্বর আমলী আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহের কাছে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, মামলার তদন্তে এজাহারভুক্ত নয় আসামি ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে আরও সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনও রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে থাকা এজাহারভুক্ত নয় আসামি হলেন- মো: সোহেল, মো: হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, ইব্রাহিম খলিল, বাদশা আলম, আবুল হোসেন, মোশারফ ও সালাউদ্দিন।
এর বাইরে তদন্তে আলোচিত এই ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- রুহুল আমিন, জসিম উদ্দিন, হাছান আলী বুলু, মো: মুরাদ ও মো: জামাল। গ্রেপ্তার করতে অসুবিধা হতে পারে বিবেচনায় অন্য দুজনের নাম প্রকাশ করেননি তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন। এই দুজনকে ধরতে অভিযান চলমান আছে বলে জানান তিনি।
রুহুল আমিনসহ অভিযোগপত্রভুক্ত ১১ জনকে এর আগেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী ও তার স্বজনদের অভিযোগ, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বিষয়টি জেনে চল্লিশোর্ধ ওই নারীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় রুহুল আমিন। এরপর ওই রাতে রুহুল আমিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গোরা বাড়িতে গিয়ে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করে।
মামলার পর পর্যায়ক্রমে ঘটনার ‘হোতা’ চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুহুলসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৪ জানুয়ারি রুহুল আমিনকে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
