মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে বিএনপি। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও আমরা স্বাধীন নই, আমরা মুক্ত নই। একটা পাথর আমাদের বুকের ওপর চেপে বসেছে। এ সময় দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ‘গণতন্ত্র মুক্ত করার’ শপথ নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। সেই নেত্রীকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, তাকে চিকিৎসা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না।
শোভাযাত্রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ অংশ নেন।
শোভাযাত্রার ব্যানারে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই’। এতে অংশ নিতে দুপুর ১২টা থেকেই ট্রাক ও ভ্যানগাড়ি নিয়ে কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শোভাযাত্রায় খালেদা জিয়া ও স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন সেøাগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন এবং জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ছিল তাদের হাতে। মহিলা দলের নেত্রীরা লাল-সবুজের শাড়ি এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাকর্মীরা টুপি ও গেঞ্জি পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি কাকরাইল মোড় হয়ে শান্তিনগর ঘুরে আবার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রার শুরুতে ছিলেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এরপর পর্যায়ক্রমে ছিলেন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বিএনপির মহাসচিবসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ট্রাকে করে কর্মসূচিতে অংশ নেন। জাসাস নেতাকর্মীরা ট্রাকে করে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন। নেতাকর্মীরা ‘স্বাধীনতার এ দিনে, জিয়া তোমায় মনে পড়ে’, ‘আমার নেত্রী আমার মা/বন্দি হতে দেব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিএনপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। শোভাযাত্রার সামনে ও পেছনে ছিল পুলিশ। নয়াপল্টনসহ আশপাশ এলাকায় প্রতিটি মোড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।
