কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১২) অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত মইন উদ্দিন (১৮) এবং তার বাবা কাজল মিয়াকে (৫৮) আটক করেছে র্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা। শুক্রবার দিবাগত আড়াইটার দিকে কুলিয়ারচরের নাজিরদীঘির এক বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
পরে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মামলার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ক্যাম্প অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের। এ সময় ক্যাম্পের সিনিয়র এডি চন্দন দেবনাথসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, গত ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্কুলছাত্রীকে মইন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর কিশোরীর বাবা-মা মইন উদ্দিনের বাবা-মাকে জানালে তারা কিশোরীকে ফেরত এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অযথা সময় নষ্ট করেন। পরে গত ২৭ মার্চ বুধবার ছাত্রীর বাবা বাজিতপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর কুলিয়রচরের এক ইউপি সদস্য মো. আনিস মেম্বারের সহযোগিতায় ছাত্রীকে ফেরত দেন অভিযুক্তরা।
বাড়ি ফিরে এসে ছাত্রী জানান, আসামি মো. মইন উদ্দিন তাকে অপহরণের পর ধর্ষণ করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বাজিতপুর থানার ওসি খলিলুর রহমান গত ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে মেয়েটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসহ আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করান। এইসব কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে পেরে আসামি পক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে।
হুমকির বিষয়টি অবগত হয়ে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এবং সিনিয়র এডি চন্দন দেবনাথের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে কুলিয়ারচরের নাজিরদীঘি এলাকার জনৈক সিরাজ মিয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে প্রধান অভিযুক্ত মইন উদ্দিন (১৮) এবং তার বাবা কাজল মিয়াকে (৫৮) আটক করে।
