সুগন্ধীর দাম ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার! বাংলাদেশি টাকায় ১১ কোটি ১৩ লাখ। নাম তার ‘শুমুখ’। হীরা, সোনা আর রুপায় মোড়ানো শুমুখের ক্রিস্টালের বোতলটি সোনার বাজপাখি, অ্যারাবিয়ান ঘোড়া ও পৃথিবীর মানচিত্র খচিত। বোতলের গায়ে ব্যবহার করা হয়েছে তিন হাজার ৫৭১টি হীরক খ-। সঙ্গে রয়েছে ৩৮ দশমিক ৫৫ ক্যারেটের বড় মুক্তা, আড়াই কিলোগ্রামের ১৮ ক্যারেট সোনা ও ৫ দশমিক ৯ কিলোগ্রাম খাঁটি রুপা। দুই মিটার লম্বা শুমুখের বোতলটি বসানো হয়েছে চামড়ায় মোড়া কুশনে। এটিই এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি সুগন্ধীÑ দাবি নির্মাতা দ্য স্পিরিট অব দুবাইয়ের। এটি বিলাসবহুল সুগন্ধী ব্র্যান্ড নাবিলের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
দ্য স্পিরিট অব দুবাই বলছে, তিন বছর গবেষণার ফল এই শুমুখ। বোতলে খচিত প্রাণী ও সুগন্ধী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সুগন্ধী তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে চন্দন গুঁড়ো, চাঁপা ফুল, তার্কিশ গোলাপ, ভারতীয় আগর কাঠ, কস্তুরীমৃগের নাভি থেকে নিঃসৃত সুগন্ধ ও পাচৌলি নামের এক ধরনের গুল্ম। দুটি বিবেচনায় সুগন্ধীর এই বোতলটি জায়গা করে নিয়েছে গিনেস বুকের তালিকায়। একটি সুগন্ধীর বোতলে খচিত হীরারাজির কারণে। বলা হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হীরকখচিত বোতল এটি। অন্যটি হচ্ছে- বোতলটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত স্প্রে সংবলিত।
শুমুখের ক্রেতারা কারা, সে তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি দ্য স্পিরিট অব দুবাই। দুবাইয়ের সুগন্ধীর জন্য বিখ্যাত শপিং মলগুলোয় রাখা হয়েছে শুমুখ। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি ক্লাইভ ক্রিস্চিয়ান নং ১ বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে দামি সুগন্ধী তৈরি করে। ২০০৫ সালে এই কোম্পানির তৈরি ইম্পেরিয়াল ম্যাজেস্টি নামের সুগন্ধীটির প্রতি ৫০০ মিলিলিটারের ১০ বোতল বিক্রি হয় ২ লাখ ৫ হাজার ডলারে। তবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড শুমুখের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেয়নি।
তবে শুমুখের দাম ইম্পেরিয়াল ম্যাজেস্টিকে ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সিএনএনের বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, প্রতি মিলিলিটার শুমুখের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হবে ৪৩১ ডলার। আর দ্য স্পিরিট অব দুবাই এটিকে দাবি করছে সবচেয়ে দামি সুগন্ধী হিসেবে। ফ্রান্সভিত্তিক সুগন্ধী নির্মাতা মোরিয়েল প্যারিসও কাজ করছে বিশেষ ধরনের সুগন্ধী তৈরিতে। তাদের তৈরি করা সুগন্ধীর ১০ লিটারের বোতলও থাকবে সোনা, হীরা ও রুবিখচিত। এই সুগন্ধীর বোতলটি হাতে পেতে ক্রেতাকে খরচ করতে হবে ১ কোটি ৮০ ডলারের বেশি। অর্থাৎ, প্রতি মিলিলিটারের ব্যয় ১ হাজার ৮০০ ডলার।
