চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক এমপি আবদুল ওদুদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলার ছয় দিন পর এবার একই জমি জালিয়াতির মামলা হয়েছে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচিত হারুনুর রশিদ হারুনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিফ-জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন হারুনের চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ালিউল্লাহ। বিচারক মোস্তফা কামাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২৮ মার্চ হারুনুর রশিদ হারুন বাদী হয়ে তার চাচাতো ভাই আবদুল ওদুদসহ পাঁচজনকে আসামি করে জালিয়াতির মামলা করেন। ওই মামলায় আরজিতে উল্লেখ করা হয়, একজনকে ফুপু সাজিয়ে নিঃসন্তান ফুপু গোলেনুর বেগমের ১০ একরেরও বেশি জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।
গত বুধবার হারুনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন আরেক চাচাতো ভাই ওয়ালিউল্লাহ। এই মামলায় আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ফুপু গোলেনুর বেগমকে দাতা দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করেছেন হারুনুর রশিদ হারুন। মামলায় হারুনুর ছাড়াও আসামি করা হয়েছে তার বোন মমতাজ মহল ও তার স্বামী ফারুক আহম্মেদ এবং শিবগঞ্জের মনাকষা বিশ^নাথপুর গ্রামের আবদুর জাব্বারকে।
মামলার আরজির বরাত দিয়ে বাদীর আইনজীবী সারিউল্লাহ ইসলাম রিফাত জানান, বাদী ওয়ালিউল্লাহ গত ২৮ মার্চ পরস্পরের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, আদালতে তার ফুপু গোলেনুর বেগমকে দাতা দেখিয়ে ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট ৮৬৩৮ নম্বর হেবানামা দলিল জালিয়াতি করেছে। গোলেনুর বেগমকে দাতা দেখিয়ে হারুন ও অন্য আসামিরা জমি রেজিস্ট্রি করেছেন। ওই সময় গোলেনুর বেগমের দলিল সম্পাদন করার শারীরিক সক্ষমতা ছিল না। তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় হারুনের বোন মমতাজ মহল ও তার স্বামী ফারুক আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল ওদুদ, হুজরাপুরের রুলিয়ারা বেগম ও বারোঘরিয়ার আমিনুল ইসলামকে।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, চালাকির আশ্রয় নিয়ে হারুন তার চাচাতো ভাই আবদুল ওদুদ ও তার নাবালক ছেলে এবং বাদীকে জমি গ্রহীতা দেখিয়েছে। যা বাদী ওয়ালিউল্লাহ সম্প্রতি জানতে পারেন।
মামলার বাদী ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে ফুপুর জমির প্রকৃত ওয়ারিশ আমরাই। সাংসদ হারুনুর রশিদই জমি জালিয়াতি করেছেন। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরই আমি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিই।’
এ ব্যাপারে হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, ‘মামলা এবং জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এ মামলা করা হয়েছে। মৃত ফুপুর জমি জালিয়াতির অভিযোগ এনে আমিই আগে মামলা করেছি। মিথ্যা অভিযোগ যাচাই না করে আদালত কীভাবে মামলাটি গ্রহণ করল তাতে আমি বিস্মিত।’
