বগুড়ার শেরপুরে টহল পুলিশের ওপর চরমপন্থিদের হামলায় পুলিশের এক কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত এএসআই নান্নু মিয়াকে (৪২) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার পাবনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ৫৬৫ চরমপন্থি সদস্যের আত্মসমর্পণের ১৫ ঘণ্টা আগে পাশের জেলা বগুড়ায় পুলিশের ওপর এ হামলা হয়। ওই আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে ভবানীপুর বাজারে একদল চরমপন্থি সদস্য পোস্টার সাঁটানোর সময় নান্নু মিয়া চ্যালেঞ্জ করলে তারা পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিয়মিত রাত্রিকালীন টহলের অংশ হিসেবে নান্নু মিয়াসহ পুলিশের তিন সদস্যের একটি দল অটোরিকশায় চড়ে ভবানীপুর বাজারে যায়। তাদের গাড়িটি যখন ভবানীপুর মন্দির সড়ক দিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিল তখন চরমপন্থিরা বাজারের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করে ফিরছিল। এ সময় নান্নু মিয়া তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে একটি গুলি নান্নুর ডান হাঁটুতে লাগে।’
পরিদর্শক বুলবুল জানান, চরমপন্থিদের সাঁটানো ওইসব পোস্টারে লেখা ছিলÑ ‘পাবনায় কয়েকটি বিপ্লবী সংগঠনের নামে রাষ্ট্রীয় চক্রান্তে ৬১৪ জন সদস্যের নাটকীয় আত্মসমর্পণকে প্রত্যাখ্যান করুন। মার্কসবাদ, লেনিনবাদ জিন্দাবাদ।’ এর নিচে সংগঠনের নাম হিসেবে লেখা ছিল ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি, উত্তরাঞ্চল শাখা’। গতকাল পাবনায় ৫৬৫ চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করে। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরই বিরোধিতা করে ভবানীপুর বাজারে পোস্টার সাঁটানো হচ্ছিল।
শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘নান্নু মিয়া ডান হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যরা চরমপন্থিদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে জানিয়ে ওসি হুমায়ুন বলেন, ‘তবে এতে চরমপন্থিদের কেউ হতাহত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চরমপন্থিদের ওই দলে ২০-২৫ জন ছিল বলে বাজারের নৈশপ্রহরীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। তারা সবাই সশস্ত্র অবস্থায় বাজারে অবস্থান করে। পুলিশের ওপর হামলা শেষে চরমপন্থিরা পাকা সড়ক দিয়ে হেঁটে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মধ্যে ঢুকে পড়ে। এর আগে তারা বাজারে অবস্থিত শাহাবুদ্দিনের বাড়ির পাশে অবস্থান নিয়েছিল।’
বাজারের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের ছেলে সবুজ মিয়া বলেন, ‘চরমপন্থিদের ধারণা তারা বাজারে যে পোস্টার সাঁটাচ্ছে সেই খবর আমার বাবা পুলিশকে জানিয়েছে। এ কারণে আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে চরমপন্থিরা। তখন পুলিশ ওই রাস্তা দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে গোলাগুলি শুরু হয়। চরমপন্থিরা অন্তত সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। চরমপন্থিরা এলাকা থেকে যাওয়ার আগে তাদের লাগানো পোস্টারগুলো খুলে ফেলে।’
