চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞার পরেও থামছে না ইলিশ ধরা

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:১৩ এএম

জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৬০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। জাটকা রক্ষায় এই সময়টাতে নদীতে কোনো প্রকার জাল ফেলে মাছ ধরা এবং ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ, পরিবহন বা বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞা মানতে যেন বয়েই গেছে জেলেদের। বাংলা নববর্ষকে (পহেলা বৈশাখ) সামনে রেখে নদীতে নির্বিচারে জাল ফেলছে তারা। তাদের জালে জাটকার পাশাপাশি উঠে আসছে রুপালি ইলিশও। আর বেশি মুনাফা লাভের আশায় চাঁদপুরের মাছ বাজারগুলোতে একশ্রেণির বিক্রেতা সেসব ইলিশ গোপনে বিক্রি করছে চড়া দামে। বিক্রি হচ্ছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুরের মৎস্য আড়তগুলোতে প্রশাসন প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি বন্ধ করতে পারলেও আটকে রাখা যাচ্ছে না অসাধু ব্যবসায়ীদের। তারা গোপনে চড়া দামে দেদার ইলিশ বিক্রি করে যাচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদামতো ইলিশ সরবরাহ করছে এসব অসাধু ব্যবসায়ী। ৬০০ গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি পর্যন্ত যার যেমনটা চাই সব ব্যবস্থাই আছে বিক্রেতাদের কাছে। আর বৈশাখ উদযাপন করতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ইলিশ কিনতে পিছুপা হচ্ছে না ক্রেতারাও।

চাঁদপুরের বাজারগুলোতে বৈশাখ উপলক্ষে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। আর ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। প্রশাসনের কড়া নজরদারির কারণে জেলার কোনো মাছ বাজারেই প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে না। এ সুযোগে বিক্রেতারা তাদের মনমতো ইলিশের দাম হাঁকালেও আইনি ব্যবস্থার ভয়ে ক্রেতারা তা নীরবে মেনে নিচ্ছে। যেন দাম কোনো ব্যাপার না, ইলিশ পেয়েই খুশি ক্রেতারা।

গত মঙ্গলবারও জেলার সবচেয়ে বড় মৎস্য আড়ত বড়স্টেশন মাছঘাটে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বিভিন্ন আড়তে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৮০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাচ্ছেন ইলিশ রক্ষা টাস্কফোর্সের সদস্যরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বড়স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার সব আড়তই প্রায় ফাঁকা। ইলিশের আমদানি না থাকায় আড়তগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবে দুপুরে পাশের জেলা শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের বিভিন্ন জলাশয়ে চাষ হওয়া রুই, কাতল, তেলাপিয়া ও চিংড়ি আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন মৎস্যচাষিরা। দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায় এসব মাছ। এরপর আবার আড়তের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এসব আড়তে প্রকাশ্যে না হলেও এর মাঝেই গোপনে চলে ইলিশ কেনাবেচা।

এই বাজারে হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে ইলিশ কিনতে আসা মো. শফিক নামে এক ক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাছের আড়তে গিয়ে ইলিশ চাইলে আমাকে দাঁড়াতে বলে কোথা থেকে যেন দুটি ইলিশ এনে দেয়। পরে দামদর করে আমি এক কেজি ওজনের দুটি ইলিশ ৭ হাজার টাকায় কিনেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর মৎস্য বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সবেবরাত বলেন, ‘নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা বা কেনাবেচা করা ঠিক নয়। তবে পহেলা বৈশাখের আগে দাম চড়া থাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইলিশ সংরক্ষণ করে বিক্রি করছে।’

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, ‘জাটকা ও ইলিশ রক্ষায় আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নদীতে যেন জেলেরা জাল নামাতে না পারে সেজন্য আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু তারপরও কিছু অসাধু জেলে নদীতে নেমে মাছ ধরছে।’

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘বেশি লাভের আশায় কিছু অসাধু জেলে ইলিশ ধরার চেষ্টা করে থাকে। তবে আমরা বাজারগুলো নিয়মিত মনিটরিং করছি যাতে করে কেউ ইলিশ কেনাবেচা করতে না পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত