ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের জিয়া মোড় থেকে শুরু হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে মিলিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বতন্ত্র ও ভিআইপি লাইন থাকলেও গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাসহ স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চারটি জেনারেটর দিয়ে ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করে। কিন্তু গত ১ মাস ধরে সাদ্দাম হোসেন ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলের জেনারেটর অকেজো বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানালেও বিষয়টি আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ে আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ না থাকায় সাদ্দাম হোসেন ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। পরে এই দুই হলের শিক্ষার্থীরা জেনারেটর চালু না থাকায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। রাত ১১টায় জিয়া মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।
তারা ‘বারে বারে লোডশেডিং, মানি না মানবো না’, বিদ্যুৎ চাই বিদ্যুৎ চাই, দিতে হবে দিতে হবে’সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। টানা এক ঘণ্টা বিক্ষোভ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে রাত ১২টায় বিক্ষোভ শেষ করেন তারা।
এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নিশাত সরকার বাঁধন অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে হলে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। অন্যান্য হলে জেনারেটরের লাইন থাকলেও আমাদের হলের জেনারেটর লাইন অনেকদিন ধরে বন্ধ আছে। এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি।’
সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সোহেল বলেন, “হলের ফি বিভিন্ন সময়ে বৃদ্ধি করা হলেও কোনো সমস্যাই স্থায়ীভাবে সমাধান করা হচ্ছে না। এছাড়া প্রচুর লোডশেডিংয়ের ফলে লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সময় আমাদের মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশুনা করতে হয়।”
প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকরাম হোসাইন মজুমদার বলেন, “আমি বারংবার প্রকৌশল দপ্তরে কথা বলেছি। তারা বলছে, সাদ্দাম হল এবং জিয়া হলের জন্য একটি ব্রেকার। ফলে জেনারেটর লোড টানতে পারছে না। লোডশেডিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ চলছে আশাকরি দ্রুতই সমাধান হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল বলেন, “আমরা যেখান থেকে বিদ্যুৎ নেই ওই ফিডারে আগুন লেগেছিল। তবে আগুন লাগা ফিডারে কাজ চলছে, আশা করি দ্রুতই এ সমস্যা মিটবে।”
