মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ খানের মাটি ব্যবসায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তার নেতৃত্বে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাচিয়ার চকে (বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ) ও বাঠুইমুড়ি-কলতা ব্রিজ সংলগ্ন চকে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে তা বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। আর মাটি পরিবহনের ট্রাক্টর চলছে সাধরণ কৃষকের ফসলি জমির ওপর দিয়ে। সরকারদলীয় নেতা হওয়াতে ভুক্তভোগী কৃষকরা ভয়ে সব মুখ বুজে সহ্য করছেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই আওয়ামী লীগ নেতা নালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার তিন ফসলি কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ভেকু দিয়ে কেটে বিক্রি করছেন। মাটি খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে জমির মাটি কেটে তা ট্রাক্টরের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটের ভাটাসহ বসতবাড়ি ভরাটের কাজে। যেসব কৃষক ফসলি জমির মাটি বিক্রি করছেন না, তাদের জমির ওপর দিয়ে ট্রাক ও ভেকু চলাচলের জন্য বানানো হচ্ছে রাস্তা। এলাকাবাসী আরও জানান, মাটি ব্যবসায়ী আসাদ খান সরকারদলীয় নেতা হওয়ায় কারও অনুরোধ-নিষেধ মানছেন না। নির্যাতন ও হয়রানির ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছে না বলে জানান এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নালী ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক সদস্য বলেন, কেউ স্বেচ্ছায় মাটি দিতে না চাইলে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে কম দামে ফসলি জমির মাটি নিয়ে যাচ্ছেন ওই নেতা। তবে নালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ খানের মুঠোফোনে বারবার কল করলেও তিনি ধরেননি। এ ব্যাপারে নালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন সভায় মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।’
এ ব্যাপারে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী সরকার জানান, এরই মধ্যে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নালী ইউনিয়নের হেলাচিয়ায় ফসলি জমির মাটি কাটার ব্যাপারে কেউ আমাকে জানায়নি।’ তিনি জানান, যারা ফসলি জমির মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন সবার জন্য সমান। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
