অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর শহর হারিয়েছে নান্দনিক সৌন্দর্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অসহনীয় মাত্রায় যানজট। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে ফুটপাত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত পূনর্ভবা নদী আর ঘাঘরা খালের আশপাশ দখল-দূষণে হয়েছে বিপর্যস্ত। তবে এসব দূর করে পরিকল্পনামাফিক তৈরি করা যেতে পারে এক অপূর্ব সবুজ-শ্যামল দিনাজপুর। আর সেটাই তুলে ধরা হয়েছে হাবিপ্রবির ‘স্থাপত্য অনুরনন’ প্রদর্শনীতে।
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলন কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলার হলরুমে গত রোববার থেকে শুরু হওয়া দুইদিনব্যাপী এই স্থাপত্য প্রদর্শনী পয়লা বৈশাখ উৎসবের পাশাপাশি সোমবার ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। হাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্থাপত্যের কারুকাজ স্থান পায় এই প্রদর্শনীতে।
স্থাপত্য ও শিল্পের বুননে তৈরি করা এ প্রদর্শনীতে প্রথম দিন রোববার ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, দিনাজপুর শহরকে পরিকল্পনামাফিক ও নান্দিকভাবে সাজাতে প্রদর্শনীতে যেসব নকশা বা স্থাপত্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেই অনুযায়ী আগামীর দিনাজপুর গড়ে তুলতে পারলে এখানকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ নানাবিধ উন্নয়নের সাথে আমরা একটি পরিকল্পিত শহর পাবো।
গতকাল বিকেলে প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে, স্থাপত্যে অনুরনন শিরোনামে এবারের দুইদিনের প্রদর্শনীতে স্থাপত্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের সব সৃষ্টিশীল কাজ স্থান পেয়েছে।

দুই শতাধিক মডেল, ফটোগ্রাফি, অংকন, বঙ্গবন্ধুর ছবি সুতা দিয়ে আর্টসহ অনেক কিছু। হাবিপ্রবির দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রায় সবাই এই প্রদর্শনী দেখতে টিএসসিতে ভিড় জমায়। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী প্রায় সবাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রদর্শনী দেখতে আসেন। দিনাজপুর এবং আশপাশের জেলাগুলো হতে দর্শনার্থীরা এই প্রদর্শনী দেখতে আসেন।
বর্তমান অবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক স্থাপত্যের মাধ্যমে নিয়ে এসে দিনাজপুর শহরকে একটি অগ্রগণ্য শহরে রুপ দেওয়ার জন্য পরামর্শ, সুপারিশ ও নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও শহরের কনভেনশন সেন্টার ও আর্ট ক্যাম্পাস, শিশুদের পার্ক, জলজ উদ্যান, ইকোলজিক্যাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ শহরের রূপরেখা ফেস্টুনে লিখে রাখা হয়েছে।
হাবিপ্রবি’র স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান স্থপতি নাইম মিথুনের নেতৃত্বে শহরের এ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার প্রদর্শনী সম্পর্কে বলেন, ‘হাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগের বয়স বেশিদিন হয়নি। মাত্র ৫ বছরে এই বিভাগ স্থাপত্য বিষয়ে যা করে চলেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আগামীতে এ রকম প্রদর্শনী আয়োজন করার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আর্কষণে স্থাপত্যের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে বলেও তিনি মনে করেন।
হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘আমি নিজেও এই আয়োজন প্রতিবার দেখতে আসি। স্থাপত্য বিভাগের বিভিন্ন নকশা ও ভবনের চিত্রগুলো মাফিক যেকোনো শহর গড়ে তোলা হলে একটি পরিচ্ছন্ন ও নানন্দিক শহরের রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান নাইম মিথুন বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একটি বিভাগ বলে চলে। আমাদের বয়স খুবই কম। এর মধ্যেই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে চেষ্টা করছি দিনাজপুর এবং আশপাশের অঞ্চলকে কীভাবে পরিকল্পনামাফিক সাজানো যায় তারই বিভিন্ন প্রকৃতির নকশা।
আশা করি আমরা আগামীতে আরো ভালো মানের পরিকল্পনা নিয়ে শহরের জন্য কাজ করতে পারবো।’
