মোদির ‘রহস্যময় কালো ট্রাংক’ নিয়ে বিতর্ক

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১১:০১ পিএম

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গিয়েছিলেন কর্নাটক সফরে। বিমানবন্দরে নামার সময় মোদির হেলিকপ্টার থেকে একটি ‘সন্দেহজনক কালো ট্রাংক’ নামাতে দেখা যায়, যা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বিরোধী দল কংগ্রেসের মুখপাত্র আনন্দ শর্মা নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের সঙ্গে আরও তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। মোদির হেলিকপ্টার থেকে একটি কালো ট্রাংক নামানো হয় এবং তা দ্রুতগতিতে একটি বেসরকারি গাড়িয়ে তুলে নেওয়া হয়। ওই গাড়িটি মোদির প্রটোকল বহরের তালিকায় ছিল না।’

গত রবিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের দপ্তরে ট্রাংককাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে মিনিটখানেকের সিসিটিভি ফুটেজ। এ ঘটনায় কর্নাটক কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ‘হেলিকপ্টার থেকে নামানো হলো একটি কালো ট্রাংক। তা ধরে আছে দুজন। ট্রাংক নিয়ে জোরে দৌড়ে এগিয়ে চলেছে তারা। তাদের লক্ষ্য সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা গাড়ি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই গাড়ির সামনে পৌঁছে যায় তারা। ট্রাংক রেখে দেওয়া হয় গাড়িতে। এরপর দ্রুতগতিতে ওই জায়গা ছেড়ে চলে যায় গাড়িটি।’

কংগ্রেস নেতা সাবেক কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মা আরও বলেন, ‘ওই ট্রাংকে কী ছিল? যদি টাকাই না থেকে থাকে, তাহলে তো তদন্ত করা যেতেই পারে। ভোটের সময় কোনো মন্ত্রী, কোনো নেতা এমন কিছু নিয়ে যেতে পারেন না, যাতে অবাধ নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আর এটি তো খোদ প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর পরীক্ষা ছাড়া কিছু যাওয়ার উপায় নেই। এই ট্রাংকে যদি নগদ টাকা না থাকে, তাহলে সেটি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়ে দিক। সেই ট্রাংকে কী রাখা হয়েছিল, কেনইবা গাড়ি কনভয়ের বাইরে একটি গাড়িতে তা তুলে সেই গাড়ি উধাও হয়ে গেল?’

তবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কালো ট্রাংক নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কংগ্রেসের বরং দুর্নীতির ক্ষেত্রে নিজেদেরই স্বচ্ছতার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত