চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্ন ধরে রাখতে মরিয়া ম্যানসিটি

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:১০ এএম

এক মৌসুমে চার শিরোপার স্বপ্নে বিভোর ম্যানচেস্টার সিটি। দলটির সেই স্বপ্ন ধূসর করার হুমকি দিয়ে রেখেছে টটেনহ্যাম হটস্পার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ঘরের মাঠে সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। দ্বিতীয় লেগে এই ব্যবধান ধরে রাখলে ম্যানসিটির চার শিরোপাস্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। ঘরের মাঠে আজ এই স্বপ্ন জিইয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ পেপ গার্দিওলার দলের। টটেনহ্যামকে ২-০ ব্যবধানে হারালেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত সিটির। তবে গোলশূন্য ড্র করলে সিটিকে হতাশ করে সেমিফাইনালে উঠে যাবে টটেনহ্যাম। এছাড়া স্পাররা অ্যাওয়ে গোল পেলে তা শোধ দেওয়ার পর আরও এক গোলের ব্যবধান রাখতে হবে সিটিকে। এসব সমীকরণ আজ গার্দিওলার চিন্তার কারণ। এছাড়া অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে আছে লিভারপুল। দ্বিতীয় লেগ পোর্তোর মাঠে হলেও অল রেডরাই আজ ফেভারিট। আর পোর্তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে আরেকটি ফিরে আসার উদাহরণ হতে চায়।

ইংলিশ জায়ান্টদের কোচ হয়ে আসার পর দলটির চাহিদা পরিপূর্ণ করেছেন গার্দিওলা। তবে তা ইংল্যান্ডের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায়। ম্যানসিটির গার্দিওলার শরণাপন্ন হওয়ার মূল কারণ ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ইউরোপ সেরা হওয়াই এ ক্লাবে স্প্যানিশ কোচের সফলতার মানদ-। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড পয়েন্ট, গোল ও জয়ের হিসাবে নতুন করে লিখেছিল ম্যানসিটি। এবার গত এক যুগের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে লিগ শিরোপা ধরে রাখার পথে হাঁটছে তারা। তবুও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ঘরে আনাই ম্যানসিটি ও গার্দিওলার চুক্তির মূল লক্ষ্য। সে পথে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল তার দল। কোয়ার্টারের প্রথম লেগে স্বদেশি ক্লাব টটেনহ্যাম কঠিন করে দিয়েছে হিসাব। দ্বিতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে সেই হিসাব মেলাতে হবে সিটিকে।

টটেনহ্যামের মাঠে হারা সিটি কোচ গার্দিওলার জন্য একরকম ব্যর্থতা। গত আট বছরে তিনটি অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান দল পেয়েছেন তিনি। কিন্তু বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানসিটিকে পেয়েও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার বা সেমিফাইনালের কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচ জিততে পারেননি গার্দিওলা। বার্সার হয়ে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন। কিন্তু বায়ার্নকে নিয়ে তিনবার সেমিফাইনালে গিয়েও ছিটকে পড়তে হয়। আর ম্যানসিটিকে নিয়ে গত তিন মৌসুম টুর্নামেন্টটির সেমিফাইনালেই যেতে পারেননি। এবারও যদি ব্যর্থ হন তবে তার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্পেশালিস্ট খেতাব হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে।

এদিকে সিটির মাঠে টটেনহ্যাম সাফল্যের মধ্যমণি ছিলেন সন হিউং-মিন। দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ডের গোলেই প্রথম লেগ জিতেছিল তারা। একই ম্যাচে দলটির সেরা তারকা হ্যারি কেনের ইনজুরি ক্ষতিতে ফেলেছিল স্পারদের। কিন্তু সন সব আশঙ্কা দূর করে দেন। দ্বিতীয় লেগেও নিজেই সব চাপ নেওয়ার কথা জানান। তাছাড়া ১৯৮৪ সালের পর প্রথম ইউরোপিয়ান সেমিফাইনাল নিশ্চিতের জন্য পুরো টটেনহ্যাম প্রস্তুত বলে জানান দক্ষিণ কোরিয়ার এ তারকা ফুটবলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত