ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:০২ পিএম

বানিয়াচং চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মিল হোসেন খানের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার বরখাস্তের আদেশ জারি করেন সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপপরিচালক একে. এম. সাফায়েত আলম। বানিয়াচং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মো.হাসিবুল ইসলাম বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। 

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় প্রধান শিক্ষক মোজাম্মিল হোসেনের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায় একই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তখন অন্য ছাত্র ছাত্রীরা এসে পৌঁছায়নি। একা পেয়ে  শিক্ষক তার ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে যান ছাত্রীকে। এ সময় তিনি ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন। ওই ছাত্রী দৌড়ে বের হয়ে পাশের বাড়ির এক মহিলার কাছে গিয়ে বিস্তারিত জানায়। ওই মহিলা ছাত্রীর মাকে খবর দিলে মা এসে তাকে নিয়ে যান।

পরে মঙ্গলবার বিকেলেই ছাত্রীর বাবা প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। ইউএনও মো.মামুন খন্দকার ও শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলামের তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মিলে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার রাতে ই-মেইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়। এদিকে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কয়েক দফা অভিযান করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছেন।

বানিয়াচঙ্গ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কাইউম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশ ওই ছাত্রীর পিতাকে মামলা করার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি।

ছাত্রীর বাবা বলেন আমি বিষয়টি শিক্ষা অফিসার, ইউএনওসহ প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা যে ব্যবস্থা নেবেন তা আমি মেনে নেব। মামলা চালানোর মত আমার অর্থ নেই।

তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী ও একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আবুল ফজল  আমার বাড়িতে এসে দুঃখ প্রকাশ করে মাফ চেয়েছেন। তারা বিষয়টি যাতে না অগ্রসর হয়, সে ব্যাপারে তার সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মিল হোসেন স্থানীয় কতিপয় লোক তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসাচ্ছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত