বিদেশে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠানকে বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হবে না। গতকাল গাইডলাইন ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন-২০১৮ (জিএফইটি) সংশোধনের পর এ সংক্রান্ত এক ব্যাখ্যায় এমন নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে জিএফইটির ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিদেশে শাখা কার্যালয় বা সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য বাংলাদেশিদের বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ব অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। এর অধীনে বিদেশে খোলা কার্যালয়ের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য বার্ষিক ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশের বাইরে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হতো দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
এই অনুচ্ছেদ থেকে ‘সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান’ শব্দটি প্রত্যাহার করে গতকাল জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদেশে শাখা অফিস খোলা ও এর আনুষঙ্গিক ব্যয় বহনে রেমিট্যান্স অনুমোদনের বিষয়টি প্রযোজ্য, তা স্পষ্ট। কিন্তু এই অনুমোদন কোনোভাবেই বিদেশে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি প্রতিষ্ঠায় ইকুইটি রেমিট্যান্সের জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়।
সরকার কাউকে মূলধন স্থানান্তরের অনুমোদন দেয় না। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আগের প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মূলধন স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়। গত কয়েক বছরে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিদেশে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বা শাখা খোলার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদেশে ব্যবসা স্থাপনে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) অ্যাকাউন্টে সঞ্চিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের অনুমতি পেত। রপ্তানি আয়ের একটি অংশ ইআরকিউ অ্যাকাউন্টে জমা রাখার অনুমতি দেওয়া হয় রপ্তানিকারকদের।
প্রসঙ্গত বিদেশে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় অনেক কোম্পানি ব্যবসা করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন নিয়েই ব্যবসা পরিচালনায় বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করছে। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশি আকিজ গ্রুপ মালয়েশিয়ার রবিন রিসোর্সেস (এম) এসডিএন বিএইচডি ও রবিনা ফ্লোরিং এসডিএন বিএইচডি নামে দুটি কোম্পানি অধিগ্রহণ করে। এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অর্থ স্থানান্তরের জন্য গ্রুপটিকে ইআরকিউ হিসেবে রপ্তানি আয়ের অর্থ রাখতে হয়েছে। এ দুই কোম্পানি অধিগ্রহণে আকিজ গ্রুপ সরকারের অনুমোদনক্রমে বিদেশে দুই কোটি ডলার ইকুইটি বিনিয়োগ করে। অবশিষ্ট ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
