মালিবাগে আগুনে ছাই দুই শতাধিক দোকান

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৫০ এএম

রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডে দুই শতাধিক দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। পুড়ে মরেছে তিনটি গরু ও ৩০টি ছাগল। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে বাজারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার  চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে মালিবাগ রেলগেটের পাশের কাঁচাবাজারে আগুন লাগার খবর আসে। পর্যায়ক্রমে ১২টি ইউনিট সেখানে গিয়ে ৬টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল ৯টায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় তারা। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০০ দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে বলে জানান তিনি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ২৪৩টি দোকান পুড়েছে। এ ছাড়া পাশের একটি মার্কেটের ১০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেলগেট-সংলগ্ন কাঁচাবাজারটি টিনশেডের তৈরি। বিভিন্ন পণ্যের ২৪৩টি দোকান ছিল সেখানে। এর মধ্যে সবজি, মাছ, মুদি দোকান থেকে শুরু করে মাংসের দোকান ছিল। মার্কেটের পূর্ব পাশে টিনের দোতলায় থাকে বাজারের কর্মচারীরা।

রাতে কাঁচাবাজার পাহারায় থাকে তিনজন নিরাপত্তা কর্মী। তাদের একজন মো. সাজ্জাদ বলেন, ‘ভোর ৫টা ২০ মিনিটে হঠাৎ মার্কেটের পশ্চিম পাশের একটি দোকান থেকে আগুন লাগে। আমি দ্রুত দোতলায় ঘুমিয়ে থাকা কর্মচারীদের গিয়ে খবর দিই। তারা সরে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুরো মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তাপ ও চিৎকারে আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা জেগে ওঠে। অনেকেই ভবনের ছাদ থেকে বালতিতে করে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।’ তিনি বলেন, ‘২৪৩টি দোকানের সবগুলোই পুড়ে গেছে। মাছ ও মুরগিসহ সব মালপত্র পুড়েছে। বিভিন্ন মাংসের দোকানের সামনে থাকা গরু-ছাগলও আগুনে পুড়ে মারা গেছে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাস ও ঈদ সামনে রেখে তারা দোকানে বিভিন্ন মালামাল তুলেছিলেন। আগুন তা সবই পুড়েছে। মুদি দোকানি খুরশিদ বলেন, তার একটি দোকান ও মালামালের গোডাউন পুড়ে প্রায় প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবজি ব্যবসায়ী শিপন জানান, তার প্রায় ৪৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাংস ব্যবসায়ী শাহীন বলেন, জবাই করার জন্য আগের দিন ৩০টি ছাগল এনে রেখেছিলাম। সব ছাগল ছাড়াও বেশ কয়েকটি গরু পুড়ে মারা গেছে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার এরশাদ বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে গরু-ছাগল পুড়ে যাওয়ার কোনো তথ্য নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত