তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, সরকার এমন কোনো বেকায়দায় পড়েনি যে, খালেদা জিয়াকে জোর করে প্যারোলে মুক্তি দেবে। তিনি যদি প্যারোল চান, তবে সরকার ভেবে দেখতে পারে। না চাইলে কাউকে কোনোদিন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় না। গতকাল শুক্রবার সকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘রূপসী বাংলা জাতীয় ফটো প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতা ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ বিএনপির যে কয়জনকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে, তাদের উচিত শপথ নেওয়া। শপথ না নিলে জনগণকে অবজ্ঞা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিজেরাই নিজেদের সম্পর্কে বিষোদগার করছেন।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের চার ধাপ অবনতির প্রতিবেদন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো ইনডিপেনডেন্ট। তারা নিজেদের মতো করে রিপোর্ট দেয়। অন্য একটি প্রতিষ্ঠান হয়তো জরিপ করে বলবে চার ধাপ উন্নতি হয়েছে।’
এ বিষয়ে একই অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেই দেশে গণমাধ্যমের বিস্তৃতি বেড়েছে।’ আলোকচিত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছবি ইতিহাস হয়ে থাকে। স্বাধীনতাযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনের ছবি দেখলেই মানুষ ইতিহাস বলে দিতে পারে। গণমাধ্যম ও ক্যামেরা যেন সব সময় মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে; মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকে।’
দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ‘একটি ছবি একটি বিপ্লব ঘটাতে পারে। অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিটি ছবি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকে। যারা আমাদের অগ্রজ, যারা আজ বেঁচে নেই, তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। তাহলে যারা মাঠে কাজ করছেন, তারাও একদিন মূল্যায়িত হবেন।’
অনুষ্ঠানে তিন ফটোসাংবাদিককে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়। ফটোসাংবাদিক এস এম মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে তার ছেলে জাভেদ হোসেন, মোশারফ হোসেনের পক্ষে তার ছেলে এস এম গোর্কি ও আলহাজ জহিরুল হকের পক্ষে তার ছেলে হাসিব জহির সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব ড. কাজী আসাদুজ্জামান, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক কাজল হাজরা প্রমুখ।
