বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতেই চেয়ারপারসনকে সরকার আটক রেখেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে শত নাগরিক কমিটির উদ্যোগে দলীয় প্রধানকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিকে ভেঙে ফেলার জন্য; বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বারবার চেষ্টা হয়েছে। এবারও খালেদা জিয়া কারাগারে একটি কারণে সেটা হলো বিএনপিকে নিঃশেষ করা। বিএনপিকে ধ্বংস করে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। কিন্তু সম্ভব হবে না, হতে পারে না। হতাশ হবেন না, হতাশার কথা বলবেনও না। খালেদা জিয়া যেখানেই থাকুন, তিনিই অনুপ্রেরণা।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা চলছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘চেয়ারপারসনের মুক্তি ছাড়া বিএনপির নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্য কোনোভাবেই শপথ নেবেন না। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা নয়। নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
মওদুদ শপথ না নেওয়ার বিষয়ে জোর গলায় বললেও সংসদ সদস্যরা যে শপথ নিতে আগ্রহী তা প্রকাশ পেল একই ফোরামের আরেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কথায়। তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপির নির্বাচিত নেতারা বলছেন, এলাকার মানুষের চাপ আছে শপথ নেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু শুনতে চেয়েছিলাম, তারা বলবেন, খালেদা জিয়া আগে মুক্ত হবেন। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত হলে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করব।’
নেতৃত্ব তৈরিতে খালেদা জিয়ার ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন দলে নির্ভীক, সৎ ও সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি, এটি তার একটি ব্যর্থতা। এই কারণে নেতারা সংকট মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছেন। আর সরকার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উসকানি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে।’
‘খালেদা জিয়া তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ নামে খালেদা জিয়াকে নিয়ে ৮৬০ পৃষ্ঠার বইটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার। বইটি প্রকাশ করেছে বুক এভিনিউ; দাম ধরা হয়েছে ২ হাজার টাকা। ৮৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে খালেদা জিয়ার ১০ বছরের শাসনামলে শিক্ষা-প্রসার, ভিশন-২০৩০, ওয়ান-ইলেভেনে সরকারের সময়ে বিভিন্ন বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৪ মাস ধরে কারাগারে। শারীরিকভাবে তিনি খুবই অসুস্থ বলে দলের নেতাদের দাবি।
অনুষ্ঠানে বইয়ের লেখক আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘আজকের প্রকাশনা উৎসব প্রতিবাদ সমাবেশে পরিণত হয়েছে। এই বইয়ের নাম খালেদা জিয়া নিজে পছন্দ করে দিয়েছেন। আমরা অনেক নাম নিয়ে তার কাছে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে তিনি এই নামটি পছন্দ করেন।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ও ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।
