লেনিনের জন্মদিনে সাবেক মন্ত্রী মেনন বললেন 'দেশটা পুঁজিপতিদের'

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:১৫ পিএম

বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি একেবারেই লুটেরা পুঁজিপতিদের উল্লেখ করে সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘এ কথা শুনলে আমাদের যারা শাসন করছেন বা সরকারে আছেন, তারা হয়তো রাগ করতে পারেন।’

সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্র, বিপ্লব ও বর্তমান বিশ্ববাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন। ইতিহাসের বিপ্লবী নায়ক ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের ১৪৯ তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটি এই আলোচনার আয়োজন করে।

তিনি বলেন, প্রতিদিনের অভিজ্ঞতায় দেখছি, এই রাষ্ট্র কৃষক-শ্রমিক-মজুরদের নয়, সাধারণ মানুষের নয়। এটি এ দেশের লুটেরা, পুঁজিপতিদের জন্য। খেলাপি ঋণ এখন ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এটা এই শাসনামলেই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আর এই টাকার বেশির ভাগই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মেনন বলেন, বাংলাদেশর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠিন শর্তারোপের কারণে খেলাপি ঋণের টাকা বিদেশে বিনিয়োগ না করে সেখানে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছেন খেলাপিরা।

তিনি বলেন, গরিব মানুষ বা একজন কৃষক ঋণ নিয়ে ফেরত দিতে না পারলে হাতকড়া পরিয়ে জেলে নেয়া হচ্ছে। অথচ বড় বড় রাঘব-বোয়ালদের ছাড় দিতে আমাদের অর্থমন্ত্রী ব্যবস্থাপত্র ঘোষণা করলেন। ব্যবস্থাপত্রে বড় বড় ঋণখেলাপিদের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এবং ৯ শতাংশ সুদ ধরে ১২ বছরের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এর মধ্যে কতবার রিশিডিউল হবে সেটা তিনি বলেননি। এই ব্যবস্থাপত্রটা বিশেষ করে যারা বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ী, তাদের জন্য, বলেন মেনন।

তিনি বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ী বা মানুষ যখন ঋণের রিশিডিউল করতে চান তখন কিন্তু তাকে ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়। আর এমনি ঋণ নিয়ে একজনকে সুদ দিতে হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। তাহলে সোজা কথা আমি ব্যাংক থেকে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়ে যাব।

খেলাপি হয়ে গেলেই তো আমার সুবিধা, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১২ বছরে ৯ শতাংশ হারে সুদ দেব। নিয়মিত সুদ দিলে তো ১৩ শতাংশ দিতে হবে। তাহলে এ অর্থনীতি কার জন্য- প্রশ্ন রাখেন মেনন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত