সোনাগাজীর সেই মাদ্রাসাকে নকলের আখড়ায় পরিণত করে সিরাজ

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:২৩ পিএম

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকে নকলের আখড়ায় পরিণত করে এর অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা।

শনিবার এ কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ছয় আলীম পরীক্ষার্থী ও ছয় শিক্ষককে শোকজ করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন আক্তার।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, অধ্যক্ষ ও আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদ দৌলা মাদ্রাসাকে নকলের ‘আখড়ায়’ পরিণত করেন।

তারা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসাধু শিক্ষকদের সঙ্গে আঁতাত করে কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের অনিয়মের সুযোগ করে দেয় অধ্যক্ষ। ফলে এ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়মের সুযোগ ভোগ করত।

তারা আরও অভিযোগ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বই নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ ও প্রকাশ্যে নকলের সুবিধা আদায় করে নিত অনেককে। কোনো শিক্ষক সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করলে তাকে নানা ভাবে হেনস্তা করার হতো।

শনিবার ওই কেন্দ্রে ছয় শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ছয় শিক্ষককে শোকজ করার পর সিরাজ উদ দৌলার এ অনিয়ম আলোচনায় আসে।  

নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে শোকজ পাওয়া এক শিক্ষক জানান, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছি। বিগত বছরে পরীক্ষা হলে অনেকটা অসহায়ের মতো দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অসদুপায়ের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চাইলে সিরাজ উদ দৌলার রোষানলে পড়তে হয়। তার পক্ষের ছাত্রদের লেলিয়ে দেওয়াসহ আমার অধ্যক্ষকে ডেকে ভর্ৎসনাও করত সিরাজ উদ দৌলা। নিরাপত্তার স্বার্থে আমাকে বেশ কয়েক দিন পরীক্ষায় দায়িত্ব নিতে দেননি আমাদের অধ্যক্ষ।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন চৌধুরী জানান, শনিবার পরীক্ষার হলে নকলের ছড়াছড়ি দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। পরবর্তীতে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ৬ শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এ কেন্দ্রটি নকলের ‘আঁতুড় ঘরে’ পরিণত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ।

পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যায় নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনা তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে  গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত