ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানসহ দুই প্রকৌশলীর দুর্নীতি তদন্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে তিন যুগ্ম সচিব ও এক উপসচিবকে সদস্য করা হয়েছে।
কমিটি জানায়, ঢাকা ওয়াসার এমডিসহ তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের দিনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কমিটির প্রধান মন্ত্রণালয়ের পানি সরবরাহ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন।
অভিযুক্ত অপর দুই ব্যক্তি হলেন, আইন বহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী আবুল কাশেম ও প্রকৌশলী একেএম সহিদ উদ্দিন।
তদন্ত কমিটির অন্য চার সদস্য হলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহম্মদ ইব্রাহিম, পলিসি সাপোর্ট ইউনিটের দায়িত্বে নিয়োজিত যুগ্ম সচিব, নগর উন্নয়ন-২ এর দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সচিব এবং পানি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা একজন উপসচিব।
তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রয়োজনে ওয়াসার এমডির সঙ্গে কথা বলা হবে। যিনি অভিযোগ করেছেন তার সঙ্গেও কথা বলব। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখব।
জানা গেছে, ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির নির্বাহী সদস্য শেখ সোহেল রানা দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে (এলজিআরডি) চিঠি দেয় দুদক।
১২ মার্চ দুদক থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
চিঠির সঙ্গে জমা হওয়া অভিযোগের কপিও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দুদক।
এরপর সোমবার তদন্ত কমিটির পাঁচ সদস্যের নাম উল্লেখ করে সরকারি আদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ঢাকা ওয়াসার পদ্মা-জশলদিয়া প্রকল্পের পাইপ ক্রয়ের ৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি মোতাবেক ২২ দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরু (বিশেষ ক্ষেত্রে ১৯ দশমিক ২ মিলিমিটার) পাইপ কেনার কথা থাকলেও পাইপ নেয়া হয়েছে নিম্নমানের ১৯ মিলিমিটার পুরু।
এ ছাড়া গুলশান-বনানী লেক উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।
তদন্ত কমিটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়ে ওই প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আখতারুজ্জামানকে শাস্তির সুপারিশ করলেও ঢাকা ওয়াসা তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী করে।
জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা বোর্ডকে প্রভাবিত করে আইন ভেঙে তাকসিম এ খানের বারবার নিজের এমডি পদের মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করছে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি।
