অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণি গতকাল শুক্রবার সকালে ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরীতে। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছে। এর আগে ওড়িশা ও উপকূলবর্তী অঞ্চলের কমপক্ষে ১১ লাখ লোককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। ভয়াবহ এ ঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জনকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফণির সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমেই শক্তি হারিয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে। এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে গতকাল প্লাবিত হয়েছে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা; দেশজুড়ে হয়েছে বৃষ্টি। ঝড়ো বাতাসে গাছচাপায় বাগেরহাটে এক নারী নিহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের ওড়িশা উপকূল ও সংলগ্ন উপকূলীয় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও কিছুটা দুর্বল হয়ে ভারতের উপকূলীয় ওড়িশা, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে খুলনা ও সংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও উপকূলীয় এলাকায় গতকাল সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় ফণির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা,
পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নি¤œাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২-৪ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
তবে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বুলেটিনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আজ সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। এতে বাতাসের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভয়ঙ্কর এ ঘূর্ণিঝড়টির নাম ফণি রেখেছে বাংলাদেশ, যার অর্থ সাপ বা ফণা তুলতে পারে এমন প্রাণী। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচনা করা হয় ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়কে। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সর্বোচ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে চট্টগ্রামে আঘাত হানা এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। তাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয় বলে জানা যায়। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১২-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়। ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২২৫ কিলোমিটার। ‘শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে খ্যাত এ ঝড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। আর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে, যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। রেড ক্রসের হিসাবে, সিডরে ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানির কথা বলা হলেও সরকারিভাবে সংখ্যাটি ছয় হাজার।
সবশেষ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা :
বাগেরহাট : জেলার সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের রণজিৎপুর গ্রামে ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে শাহানুর বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নিহত শাহানুর ওই গ্রামের মোজাহার হাওলাদারের স্ত্রী। খানপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফকির ফহমউদ্দিন বলেন, শাহানুর বেগম বাড়ির উঠানে গরুর খড়ের গাদায় কাজ করছিলেন। ওই সময় রেইন ট্রি গাছের একটি ডাল ভেঙে পড়ে তার মাথায়। পরে স্থানীয় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ফণির প্রভাবে গতকাল দুপুরে জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধ উপচে জেলার শরণখোলা উপজেলার তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদের ওপর নির্মিত বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি ঢুকে এসব গ্রামের অন্তত ১০০টি বাড়িতে পানি উঠে গেছে। গ্রামগুলো হলো বগী, সাতঘর ও দক্ষিণ সাউথখালী।
সাউথখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, বলেশ্বর নদের বগী এলাকার বেড়িবাঁধের একটি অংশ উপচে গ্রামের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এতে বেশকিছু ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে উপকূলীয় বাগেরহাটের কিছু এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাগেরহাটের মসজিদগুলোতে বিশেষ মোনাজাত, মিলাদ ও দোয়া হয়েছে। গতকাল দুপুর থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা ও রামপাল উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনার কাজ শুরু করে প্রশাসন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণি আঘাত হানলে সুন্দরবন সংলগ্ন চারটি উপজেলায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই এসব উপজেলার জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে প্রশাসন কাজ করছে। এসব এলাকায় প্রায় ৪০০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শরণখোলা ও রামপাল উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার কিছু বাসিন্দাকে সরিয়ে আনার কাজ আমরা শুরু করেছি। এসব এলাকায় প্রায় ছয় হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শরণখোলা ও মোংলা উপজেলাতে ৩০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
ভোলা : ফণির প্রভাবে গতকাল সকাল থেকেই ভোলায় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে দেখা গেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে নদ-নদীর পানি এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে সব রুটে নৌ-চলাচল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের অনেকেই স্পিডবোটে চড়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের ৯২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, পরিষ্কার করা হয়েছে ৬৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তার জন্য ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিকী জানান, জেলার চর জহিরউদ্দিন, চর মোতাহার, গাজীর চর, মাঝের চর, মনপুরাসহ বিচ্ছিন্ন ৪৫টি চরাঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২১ হাজার ৬০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
হাতিয়া (নোয়াখালী) : নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চারপাশে জোয়ারের পানি এসে কূলে আছড়ে পড়ছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত দক্ষিণ দিক থেকে দমকা বাতাসসহ বৃষ্টি হচ্ছে। হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের আলাপ করে এসব খবর জানা গেছে। উপজেলার নিঝুম দ্বীপ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক রবিউল হক গতকাল দেশ রূপান্তরকে জানান, দমকা বাতাস ও জোয়ারের পানি ক্রমেই বাড়ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাতিয়ার পশ্চিম উপকূলের নলচিরা, সুখচর, চরকিং, তমরদ্দি, সোনাদিয়া, জাহাজমারা ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, জোয়ারের পানির ধাক্কায় বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা দুর্যোগ প্রতিরোধের জন্য গঠিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জাহিদ হাসান খান জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্ক প্রস্তুতি রয়েছে।
বরগুনা : শেষ মুহূর্তেও বরগুনার প্রান্তিক উপকূলে পৌঁছায়নি ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা। কোথাও কোথাও আশ্রয়কেন্দ্র দূরে হওয়ায় ভাঙা ঘরের মধ্যেই থাকতে চান বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। গতকাল বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী আবাসন প্রকল্প ও ভাঙনকবলিত বড়ইতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ ঘরেই অবস্থান করছে। কারও কারও অভিযোগ, এখনো তারা পায়নি ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিকটতম স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় ছেলেমেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে অনীহা অনেকের।
বরগুনার বড়ইতলা এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশিদ বলেন, ‘ফণি হেডা আবার কী? বইন্নায় আইবে হ্যাতো কেউ কয় নাই। ওই টিভির মধ্যে দেহি মোরাই মোরাই কী জানি ওডে। কিন্তু হ্যা যে মোগো এদিকে আইবে হ্যাতো কেউ কয় নাই।’
বরগুনার দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপপরিচালক কিশোর কুমার সরদার বলেন, ‘আমাদের সাত হাজার স্বেচ্ছাসেবক যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে।’ ডিসি কবীর মাহমুদ বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মিটিং করে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগদ অর্থ, টিন, চাল, শুকনো খাবারসহ বরগুনায় ৩৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে ৪২টি মেডিকেল টিম।
বরিশাল : ঘূর্ণিঝড় ফণি আঘাত হানলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক করতে অব্যাহতভাবে মাইকিং করা হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্র। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) বরিশাল বিভাগের ২৫ হাজার ৫ স্বেচ্ছাসেবক গত দুদিন ধরে নিরলসভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। প্রচার থেকে জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বরিশালের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা হয়েছে। সভায় সরকারের সব সংস্থাকে যার যার অবস্থান থেকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে বরিশাল নদীবন্দর থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচলে দ্বিতীয় দিনেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার। দ্বিতীয় দিনের মতো নৌ-চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন নৌপথের যাত্রীরা।
বরিশাল স্থানীয় আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
চট্টগ্রাম : ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে দেশের কোনো কোনো স্থানে বৃষ্টি শুরু হলেও শুক্রবার চট্টগ্রামের আকাশ ছিল স্বাভাবিক। অন্য সময়ের মতো রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ছিল সারা দিন। তবে সাগরে পানি বাড়তে শুরু করেছে। উপকূলীয় আনোয়ারা উপজেলার গহিরা গ্রামে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে পতেঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাগর কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠছে। মাঝারি আকারে ঢেউ খেলছে সেখানে। তবে সাগরের এ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবেই মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ, খাবার ও ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে জরুরি সভা করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে লোকজনকে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক। সাইক্লোন শেল্টারগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী : ফণির প্রভাবে জোয়ারের পানির চাপে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে জেলার কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ ও রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের ১৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব পানিবন্দি মানুষকে উপজেলা প্রশাসনসহ থানা ও নৌপুলিশসহ ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় দ্রুত নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে গবাদি পশুসহ আসবাবপত্র। কুয়াকাটা সংলগ্ন খাজুরা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় বালুর বস্তা দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
