জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের দখল শতভাগ উচ্ছেদ করা হবে: সেনাবাহিনী

আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ০৫:৩৮ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের অবৈধ দখল শতভাগ উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী। তিনি বলেন, খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা (সেনাবাহিনী) জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে জোরেশোরে উচ্ছেদে নামব। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় কাউন্সিলর সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী বলেন, সিডিএর নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৮ সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনীর সাথে এমওইউ স্বাক্ষরের পর সরকারি আদেশ জারি হয়। এরপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেড কাজ শুরু করে।

তিনি জানান, এই প্রকল্পের অধীনে গতবছর খাল থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ঘনফুট ও চলতি বছরে ৪২ লাখ ঘনফুট বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৩টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০টি এবং তৃতীয় পর্যায়ে বাকি খালগুলো পরিষ্কার ও পুনঃখনন করা হবে। প্রাথমিকভাবে যেই সব খাল পরিষ্কার করা হয়েছে সচেতনতার অভাবে সেই সব খাল আবারও বর্জ্যে ভরে গেছে। ড্রেন ও খাল অপরিষ্কার থাকার কারণে বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশন হয় না। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে জানিয়ে সেনাবাহিনীর মহাপরিচালক আরও বলেন, খাল পরিষ্কার ও পুনঃখননের পাশাপাশি নগরে যাতে জোয়ারের পানি প্রবেশ না করে, সেই রক্ষে সেনাবাহিনী ৫টি, ১২টি সিডিএ এবং ২৩টি পানি উন্নয়ন বোর্ড টাইডাল রেগুলেটর নির্মাণ করছে। এসব রেগুলেটর নির্মাণকাজ একসঙ্গে শেষ হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ যত কমানো যায়, সেই লক্ষে গত ২৩, ২৮, ২৯ এপ্রিল ও ০২ মে আমরা চসিক, সিডিএ, চসিকের ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সাথে বৈঠক করেছি। জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার জন্য নগরে ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিকল্পনা জমা দিতে কাউন্সিলরদের বলা হয়েছে। পাশাপাশি সমন্বয়ের মাধ্যমে খাল থেকে ইউটিলিটি সার্ভিস সরাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানানো হয়েছে।

সামনে বর্ষা শুরু হবে, বর্ষার আগে এক মাসের মতো কাজ করা যাবে জানিয়ে আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলরের সমন্বয়ে সেনাবাহিনীর ৮টি টিম সরেজমিন ঘুরে জরুরি ভিত্তিতে কোন খালে, কোন ধরনের কাজ করলে জলাবদ্ধতা কম হবে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার প্রকোপ বেশি হলে, তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য সেনাবাহিনীর ওয়ার্ডভিত্তিক রেসপন্স টিম থাকবে। খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে জনসচেতনতা জরুরি। এই সচেতনতা বাড়াতে নগরে র‌্যালির আয়োজন করা হবে।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল আবু সাদাত মোহাম্মদ তানভীর চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের নানা বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে, কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রানা চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মীর মাহমুদ হাসান, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বন্দরনগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সিডিএর নেওয়া চট্টগ্রামের এই বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত