আইএলও কনভেনশনে দৈনিক ৮ কর্মঘণ্টার কথা নির্ধারিত থাকলেও বাংলাদেশে তা মানা হচ্ছে না। ৮০ শতাংশের বেশি শ্রমিক মে দিবস ও স্বাভাবিক সরকারী ছুটির দিন কাজ করে করে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস)।
শনিবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আইএলও কনভেনশন নং-১-এর শতবর্ষ পূর্তি এবং বাংলাদেশে কর্মঘণ্টার বর্তমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সেমিনারে গবেষণার এই চিত্র তুলে ধরা হয়।
মহান মে দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তাকর্মী, পরিবহন খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ, রি-রোলিং মিল ও হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার- এই ৫টি প্রচলিত বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের ওপর বিলস এই প্রতিবেদনে তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিরাপত্তাকর্মী দৈনিক ১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ৫০ শতাংশ কর্মী কোনও কর্মবিরতি পান না। প্রায় ৬৬ শতাংশ নিরাপত্তাকর্মীর সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারিত নেই। সরকারি ছুটির দিনে কাজ করেন ৮৬ শতাংশ কর্মী।
বিলসের প্রতিবেদন বলছে, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাজ করা প্রায় ৯৮ শতাংশ শ্রমিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। প্রায় ১৪ শতাংশ শ্রমিক ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। কর্মবিরতি ছাড়া কাজ করেন ২৬ শতাংশ শ্রমিক। ৮০ শতাংশের বেশি শ্রমিকের কোনও সাপ্তাহিক ছুটি নেই।
রি-রোলিং খাতে ৯২ শতাংশ শ্রমিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। প্রায় ১৬ শতাংশ দৈনিক ১৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করেন। ৯৬ শতাংশ শ্রমিককে দৈনিক একাধিক শিফটে কাজ করতে দেখা যায়। এছাড়াও ৪৪ শতাংশ শ্রমিক দৈনিক গড়ে দুটি কারখানায় কাজ করেন। রি-রোলিং খাতের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শ্রমিককে দৈনিক গড়ে তিনটি কারখানায় কাজ করতে দেখা গেছে বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সেমিনারে বিলস-এর মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ আইএলও-এর সদস্য হলেও এত বছরেও আইএলও কনভেনশন বাস্তবায়ন করছে না। শ্রম আইন থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নাই।
বিলস এর ভাইস চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্জ শুক্কুর মাহমুদ-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজের অধ্যাপক জাকির হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম নাসিম, ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক ড. হামিদা হোসেন প্রমুখ।
