জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়ার্ডভিত্তিক সেনা টিম

চট্টগ্রামের সব খাল দখলমুক্ত করা হবে

আপডেট : ০৫ মে ২০১৯, ০৩:০৩ এএম

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের অবৈধ দখল শতভাগ উচ্ছেদ করা হবে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা বেশি হলে তাৎক্ষণিক সমাধানে কাজ করবে সেনাবাহিনীর ওয়ার্ডভিত্তিক রেসপন্স টিম। গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প নিয়ে মতবিনিময়কালে তিনি আরও বলেন, ‘খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা (সেনাবাহিনী) প্রকল্প বাস্তবায়নে জোরেশোরে উচ্ছেদে নামব। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ), পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় কাউন্সিলর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’ সিডিএর নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৮ সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেড কাজ শুরু করে। মাজহার সিদ্দিকী জানান, এর অধীনে গত বছর খাল থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ঘনফুট ও চলতিবছরে ৪২ লাখ ঘনফুট বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৩টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০টি এবং তৃতীয় পর্যায়ে বাকি খালগুলো পরিষ্কার ও পুনঃখনন করা হবে। প্রাথমিকভাবে পরিষ্কার করা খাল সচেতনতার অভাবে আবারও বর্জ্যে ভরে গেছে। ড্রেন ও খাল অপরিষ্কার থাকায় বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশন হয় না। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

ব্রিগেড মহাপরিচালক আরও বলেন, খাল পরিষ্কার ও পুনঃখননের পাশাপাশি নগরে যাতে জোয়ারের পানি প্রবেশ না করে, সেই লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ৫টি, সিডিএ ১২টি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৩টি টাইডাল রেগুলেটর নির্মাণ করছে। এসব রেগুলেটর নির্মাণকাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। আসন্ন বর্ষায় জনদুর্ভোগ কমাতে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা জমা দিতে কাউন্সিলরদের বলা হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় কাউন্সিলরের সমন্বয়ে সেনাবাহিনীর আটটি টিম সরেজমিন ঘুরে জরুরি ভিত্তিতে কোন খালে কোন ধরনের কাজ করলে জলাবদ্ধতা কম হবে, সেই বিষয়ে উদ্যোগ নেবে। খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে জনসচেতনতা বাড়াতে নগরে র‌্যালির আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল আবু সাদাত মোহাম্মদ তানভীর প্রকল্পের নানা বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভায় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী রানা চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্টিবিউশন কোম্পানির উপব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মীর মাহমুদ হাসান, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বন্দরনগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত