বেশ কিছুদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জটবিহীন থাকলেও গত কয়েকদিনে নতুন করে জট দেখা দিয়েছে। এখন বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা জাহাজের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। গতকাল সোমবার জেটি ও বহির্নোঙরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৭টি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা।
ঘূর্ণিঝড় ফণিকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়ার পর বিধান অনুযায়ী অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় বন্দরে। জেটিতে পণ্য খালাসের জন্য অবস্থান করা জাহাজগুলোকেও নিরাপত্তার স্বার্থে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বহির্নোঙরে। এ অবস্থায় প্রায় আড়াই দিন বন্ধ থাকে বন্দরের পণ্য ওঠানামা ডেলিভারিসহ সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম। বিপদ সংকেত ৩ নম্বরে নেমে আসার পর শনিবার বিকেল থেকে পুনরায় অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় ফণির কারণে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আগের দিন জেটি ও বহির্নোঙরে মোট পণ্যবাহী জাহাজ ছিল ৮০টি। আর গতকাল সেখানে জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৭টি। এর মধ্যে কন্টেইনারবাহী জাহাজ ২৯টি, সাধারণ কার্গোবাহী ২৩টি, খাদ্যশস্যবাহী ৯টি, সারবাহী ২টি, সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী ২৫টি, চিনিবাহী ৪টি, লবণবাহী ১টি ও ১৪টি অয়েল ট্যাংকার রয়েছে। জাহাজগুলোর মধ্যে বন্দরের মূল জেটিতে ১৫টি, বিশেষায়িত জেটিতে ৬টি ও বহির্নোঙরে ৪৯টি জাহাজে পণ্য খালাসের কাজ চলছিল। এর বাইরে আরও ৩৭টি জাহাজ পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল।
এছাড়া ডেলিভারি বন্ধ থাকার কারণে বন্দর ইয়ার্ডে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে থাকা মোট কন্টেইনারের পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ১৭৬ টিইইউস। এর মধ্যে কেবল আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনারের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৪৪৬ টিইইউস।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণি’র কারণে অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জাহাজের সংখ্যা ও এবং ডেলিভারি বন্ধ থাকার কারণে ইয়ার্ডে কন্টেইনারের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত তিন নম্বরে নামিয়ে আনার পর শনিবার বিকেল থেকে আবারও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাত দিন চব্বিশ ঘণ্টা কাজ চলছে। তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে অন্তত ১৫দিন সময় লাগতে পারে।
বন্দর ব্যবহাকারীদের মতে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও কিছুটা জটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্দরকে সেটা পুষিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফা)’র পরিচালক খায়রুল আলম সুজন এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রায় তিন দিন বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জাহাজ থেকে আমদানি পণ্য খালাস যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে জাহাজজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বন্দরকে কাজের গতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে রমজান মাসে সাহরি, ইফতার ও তারাবির কারণে কর্মঘণ্টা কিছুটা হ্রাস পায়। বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজের গতিশীলতা ধরে রাখার জন্য বিকল্প কোনো উপায় বের করা যায় কি না তা বিবেচনায় রাখতে হবে। অন্যথায় জাহাজগুলোর অতিরিক্ত অবস্থানের কারণে সংশ্লিষ্টদের অতিরিক্ত চার্জ পরিশোধ করতে হবে। আর তার নেতিবাচক প্রভাব গিয়ে পড়বে পণ্যমূল্যের ওপর।
