‘যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস’- আপিল বিভাগের এমন অভিমত পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির করা আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ১৬ মে দিন ধার্য করেছে আপিল বিভাগ। ওই দিন এ বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরিরা (আদালতে আইনি সহায়তাকারী) তাদের মতামত দেবেন।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ নতুন করে এদিন ধার্য করেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজাক খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন তাদের মতামত শুনানিতে তুলে ধরবেন।
আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও শিশির মুহাম্মদ মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
খন্দকার মাহবুব শুনানিতে বলেন, যাবজ্জীবন সাজাপাপ্ত ৫ হাজার ৫৩৭ জন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে তারা জানেন না, তাদের কত বছর কারাগারে থাকতে হবে। তাই এ বিষয়ের সমাধান হোক।
এ সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদও বিষয়টির দ্রুত সুরাহা হওয়া উচিৎ বলে মত দেন। আদালত শুনানির জন্য ১৬ মে দিন ধার্য করেন।
২০০১ সালে সাভারে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২০০৩ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে আতাউর মৃধা ওরফে আতাউর ও আনোয়ার হোসেন নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। পাশাপাশি দুজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট এক রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করলে ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এক রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
পাশাপাশি যাবজ্জীবন মানে ‘আমৃত্যু কারাবাস’সহ সাত দফা অভিমত দেয় সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামি আতাউর মৃধা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
