মাশরাফীকে নিয়ে মন্তব্য

চিকিৎসকদের ধৈর্যশীল হতে বললেন প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ০১:৪৫ এএম

চিকিৎসকদের আরও ধৈর্যশীল ও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের ১৬ কোটি মানুষ আমরা মাশরাফীকে দেশপ্রেমিক যোদ্ধা হিসেবে মনে করি। শুধু একজন ক্রিকেটার হিসেবে না। মাশরাফীর ভেতরে যে চেতনা, সাতবার অস্ত্রোপচারের পরও

কষ্ট করে বাংলাদেশের হয়ে খেলে তা ধৈর্যের পরিচয় বহন করে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে মাশরাফী নিজের নির্বাচনী এলাকার হাসপাতালে গেছে। মানুষের কষ্ট-দুর্দশা দেখে সে যেই চিকিৎসককে পাননি তার নাম্বার নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছে। কথার মধ্যে হয়তো সে কিছু ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কিন্তু অনেক চিকিৎসককে দেখা গেছে এ বিষয় নিয়ে তাকে আক্রমণ করেছে। কিন্তু মাশরাফীর সঙ্গে তো আমাদের ডাক্তারদের কোনো ঝগড়া নেই, বিবাদ নেই। মাশরাফীর মতো মানুষ যদি একটা কথা বলেই ফেলে, যদি আমার কাছে ঠিক মনে নাও হয়, তাও আমি কোনোদিনই ওইভাবে এটার প্রতিবাদ করতাম না।’

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে মুরাদ হাসান আরও বলেন, ‘যারা এটা করেছে তাদের শোকজ করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে মানুষের সেবা করা চিকিৎসকদের প্রধান কাজ। তাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক।’

২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই হাসপাতালে মেডিকেল কলেজ করার কোনো সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ে নেই। এখানে চিকিৎসকের অপ্রতুলতা আছে। এই হাসপাতালটির কীভাবে আধুনিকায়ন করা যায়, অবকাঠামো উন্নয়ন করে কীভাবে নতুন ভবন নির্মাণ করা যায় এবং কীভাবে চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করে সংকট নিরসন করা যায় এটাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।’

পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের অর্থপেডিক, কার্ডিওলজি ও ক্যানসার ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইসিইউ শয্যাসহ এই হাসপাতালে চিকিৎসক ও শয্যা সংকট আছে। তারপরও সেবা দিচ্ছে চমেক হাসপাতাল। জনগণ যাতে আরও উন্নত সেবা পায় সেজন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য সব প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সেবা ও যন্ত্রপাতি থাকবে। তখন এই অঞ্চলের মানুষ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত