নামি রেস্তোরাঁ ও সুপার শপে ভেজাল, নিম্নমানের পণ্য

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ০১:০৯ এএম

কেনাকাটায় মধ্য ও উচ্চবিত্তদের পছন্দের শীর্ষে থাকলেও সুপার শপ ও নামি-দামি রেস্তোরাঁয় ভেজাল ও প্রতারণার অভিযোগ বাড়ছে। রোজায় অভিযানে এসব অভিজাত প্রতিষ্ঠানে ভেজাল, বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, নিম্নমানের পচা পণ্য বিক্রি, বাড়তি দাম ও আইন ভঙ্গের নানা প্রমাণ মিলেছে। গেল সপ্তাহে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও র‌্যাবের অভিযানে চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত বাসমতি, জামান মেজবানি অ্যান্ড কাবাব, আগোরা সুপার শপ, খুলশী এলাকার তাবা রেস্টুরেস্ট, খুলশী মার্ট – সবক’টি দণ্ড ও জরিমানার মুখে পড়েছে। গত শুক্রবার সুপার শপ খুলশী মার্ট ও আগোরার ফ্রিজ থেকে বিপুল পরিমাণ পচা মাছ মাংস জব্দ করে র‌্যাব।

জানতে চাইলে র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মাশকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ও ভেজাল ঠেকাতে নগরীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও স্বনামধন্য সুপার শপে অভিযানের অংশ হিসেবে দুই সুপার শপে অভিযান চালিয়ে ফ্রিজ ভর্তি পচা মাংস-মাছ আর মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ-দই পাওয়া যায়। এজন্য খুলশী মার্টকে আড়াই লাখ আর আগোরাকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘এসব অভিজাত প্রতিষ্ঠান মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। মানুষ বিশ্বাস করে তাদের এসব খাদ্য কিনছে, প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুযোগে পচা-বাসি ভেজাল খাবার পরিবেশন করছে। এছাড়া এসব সুপার শপে পণ্যমূল্য স্বাভাবিক বাজারের তুলনায় অনেক বেশি।’

একইদিন ভেজালবিরোধী অভিযানে নগরীর জিইসির মোড়ে বাসমতি ও জামান মেজবানি অ্যান্ড কাবাবকে জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিজাত রেস্তোরাঁ ‘বাসমতি’তে অভিযানে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটরা দেখতে পান একাধিক ফ্রিজে রান্না করা মাছ-মাংস। একসঙ্গে রাখা বাটা মসলা, ডাল, সবজি। এভাবে রাখা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান বাবুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফ্রিজে রাখা বাসি-পচা খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। আর রান্না করা বাসি মাছ-মাংসের সঙ্গে কাঁচা মাছ-মাংস এক সঙ্গে রাখলে জীবাণু সৃষ্টি হয়, যা শরীরে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ঘটায়। এসব খাবার খেলে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা ও ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’ গত শুক্রবার নগরীর ‘তাবা’ রেস্টুরেন্টেও র‌্যাবের অভিযান চলে। ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ মাশরুম, ডালডা, বেসন, মাংস রাখার দায়ে এটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

নামি-দামি রেস্তোরাঁয় ভেজালে ক্ষোভ জানিয়ে খুলশীর জেবা রেহমান বলেন, ‘ভালো খাবার বিক্রি করে বলে আস্থা ছিল এসব রেস্টুরেন্টের প্রতি। কিন্তু অভিযানে চিত্র দেখে শিউরে উঠেছি। আসলে কী খাচ্ছি আমরা। এভাবে প্রতারণা করতে পারে তারা?’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত