ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে তোপের মুখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ০১:১৮ এএম

ইদ্রিস আহসান বাচ্চু নামে এক ব্যবসায়ীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠেছে বরগুনার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফরহাদ আকনের বিরুদ্ধে।

গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে আটকের পর মামলা দিয়ে বরগুনা থানায় হস্তান্তর করা হয় বাচ্চুকে।

পরে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর হস্তক্ষেপে মামলা প্রত্যাহার করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বাচ্চু জানান, জুমার নামাজ শেষে দোকান (মেসার্স মাওয়া কৃষি বিতান) খুলে বসেন তিনি। দুপুর আড়াইটার দিকে একজন ক্রেতা দোকানে ঢুকে চার কেজি সার নেওয়ার জন্য ওজন দিতে বলেন এবং একটি মুড়ির প্যাকেট দোকানের টেবিলের ওপর রেখে অন্য দোকানে আরেকটি পণ্য কেনার কথা বলে চলে যান।

ওই ক্রেতা বের হওয়ার ২/৩ মিনিটের মধ্যেই ফরহাদ আকনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটা দল দোকানে ঢুকে তার কাছে ইয়াবা আছে বলে চ্যালেঞ্জ করেন। দোকানের অন্য কোথাও তল্লাশি না করে টেবিলের ওপর (রেখে যাওয়া ক্রেতার) রাখা মুড়ির প্যাকেট থেকে ৪৬ পিস ইয়াবা বের করেন এবং এ অভিযোগে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শকের কার্যালয়ে তাকে নিয়ে যায়।

সেখানে তিনি মুড়ির প্যাকেট রেখে যাওয়া সেই ব্যক্তিকে দেখেন। বিষয়টি ফরহাদ আকনকে জানালে তিনি উল্টো হুমকি-ধামকি দেন।

এদিকে ব্যবসায়ী বাচ্চু ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার এ খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বরগুনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হয় মাদ্রাসা সড়কের মেসার্স মাওয়া কৃষি বিতানে। পরে তারা সন্ধ্যার দিকে সাংসদ শম্ভু এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবীরের কাছে গিয়ে তার মুক্তির দাবি জানান।

এ সময় তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধেরও হুমকি দেন। পরে রাত ১২টার দিকে ফরহাদ আকন দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে সাড়ে ১২টার দিকে বাচ্চুকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফরহাদ আকন বলেন, ‘সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে বাচ্চু মিয়াকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাই না।’

বরগুনা থানার ওসি আবীর মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার রাতে বাচ্চুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর একটি মামলা দায়ের করে, অল্প কিছুক্ষণ পরে সেটি প্রত্যাহারেরও আবেদন দেয়। পরে তারা যোগাযোগ করার কথা বললেও আর না আসায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত