চট্টগ্রামে ৭ সাংগঠনিক জেলার বর্ধিত সভা

সেপ্টেম্বরের মধ্যে আ.লীগের সম্মেলন করার নির্দেশনা

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ০২:৫১ এএম

চট্টগ্রামের সাত সাংগঠনিক জেলার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও নগর আওয়ামী লীগের সব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে সম্মেলন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্মেলনের পোস্টারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক জেলায় বর্ধিত সভা করার নির্দেশনাও এসেছে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ বিশেষ বর্ধিত সভায় এসব নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

নগরীর কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। দলের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ও প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, দলের উপদপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া। হানিফ       

 

বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। এই তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। তাই এলাকার উন্নয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। অনেক এমপির সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সম্পাদকের দূরত্ব রয়েছে। এসব দূরত্ব কমাতে নজর দিতে হবে। যেসব এমপি উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের বিরোধিতা করেছেন, তারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। চট্টগ্রামের সাত সাংগঠনিক জেলায় যেসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি আছে, সেখানে সম্মেলন করতে চাই। সম্মেলনে তিনজনের ছবি ছাড়া আর কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। ’

তারেক রহমানকে খুনি-সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিচার করা হবে। এই বিএনপি-জামায়াত দেশের জন্য বিষফোঁড়া। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এই ক্যানসার বিষফোঁড়াকে উপড়ে ফেলতে চাই।’

সভায় আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘দেশে এমন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে সরকার কাজ করছে না। এসব উন্নয়নকাজকে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আগামীতে যেসব কমিটি করা হবে, সেখানে প্রবীণ ও ভালো মানুষদের মূল্যায়ন করতে হবে এবং নবীনদের সংযোজন করতে হবে।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। তবে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার কারণে দলে অনেক অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদী ঢুকে পড়েছে। তাদের চিহ্নিত করে বের করে দিতে হবে। নেতাকর্মীদের বিনয়ী হতে হবে। যারা নৌকার বিরুদ্ধে ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ভাড়া করা নেতাদের দিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির কোনো আদর্শ নেই। তারা ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট, ভাড়া করা নেতাদের নিয়ে দল প্রতিষ্ঠা করেছিল। এখন ঐক্যফ্রন্টও ভেঙে যাচ্ছে।’

নওফেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে বলেছেন। আগামীতে যেখানেই সম্মেলন হবে, সেখানে সম্মেলনের জন্য যা যা করণীয় তা করতে হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম বলেন, ‘যেসব জেলা ও উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে, সেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্মেলন করা হবে। প্রত্যেক জেলায় আলাদাভাবে বর্ধিত সভা করা হবে। ওই সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা থাকবেন।’

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুসারে দল চলবে। অনেকে সাংগঠনিক পদে আছেন, কিন্তু দলের নিয়মকানুন মানেন না। দলের মিটিংয়ে থাকেন না। কিন্তু সভায় না থেকে নিজ দলের বিরুদ্ধে বাইরে সমালোচনা করেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।’ যেকোনো সময় নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিপ্লব বড়–য়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ডেটাবেইজ তৈরি করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ জন্য আওয়ামী লীগের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি/সম্পাদকের নাম, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইমেইল নম্বর দিতে হবে।’ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে আরও শক্তিশালী করারও পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী; উত্তর জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম; দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান; সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, এম এ লতিফ, জাফর আলম, বান্দরবান জেলা সভাপতি কৈশহ্লা, কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত