মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আনিস আকবর গতকাল দুপুরে অফিসের কাজে গিয়েছিলেন বাড্ডা। কথা ছিল বিকেলের মধ্যে অফিসে ফিরে জমা দেবেন কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন। কিন্তু তা দিতে পারেননি তিনি। পথে তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো এলাকায় তাকে সারতে হয় ইফতারও। কারণ রাজধানীর যানজট, যা অফিস খোলা থাকলে যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আনিস আকবরের মতো রাজধানীর অনেকেই বিভিন্ন স্থানে যানজটে আটকা পড়েন। তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে আটকা পড়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে নারী, শিশু ও বয়স্করা।
গুলশান-১ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একটি বাসের মধ্যে কথা হয় কারওয়ান বাজারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শিবাজী বিশ্বাসের সঙ্গে। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘দুপুর ২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে বাসে উঠেছি। দেড় ঘণ্টায় এখানে এলাম। মোটামুটি জ্যাম থাকলে এক ঘণ্টার মধ্যে কারওয়ান বাজার যেতে পারতাম। কিন্তু আজ যে কী হয়। ভগবান জানে। তিন ঘণ্টায়ও যেতে পারব কি না সন্দেহ আছে।’
বিকেল ৪টার দিকে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় আজিমপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শরীফ আহমদের সঙ্গে। দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, ব্যবসায়িক কাজে মহাখালী এসেছিলেন। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসে উঠতে পারেননি। শরীফ বলেন, ‘জ্যামের জন্য তো কোনো গাড়িই সময়মতো আসতে পারছে না। ইচ্ছা ছিল আজ বাসায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করব। যে অবস্থা, কী যে হয় কে জানে। ইফতার মনে হয় পথেই করতে হবে।’
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গুলশান-১ এর সিটি করপোরেশন মার্কেটের সামনে দেখা যায় এক লোক বোতল দিয়ে মাথায় পানি ঢালছেন। কিছুটা সময় নিয়ে ‘কী হয়েছে ভাই’ বলতেই অনেকটা রেগে গেলেন তিনি। রাগের সুরেই বললেন, ‘কী, আপনি কি সাংবাদিক? দেখছেন না ঘেমে শরীর একদম চুপচুপে।’ কামাল হোসেন নামের শ্যামলীর ওই বাসিন্দা জানান, অগ্রদূত বাসের যাত্রী ছিলেন তিনি। বাড্ডা লিঙ্ক রোড থেকে গুলশান-১ সিগন্যাল পার হতে তার গাড়ির লেগেছে ৪০ মিনিট। সিগন্যাল পার হয়ে আবার গাড়ি আটকে যাওয়ায় নেমে গেছেন। বাসায় গিয়ে কি ইফতার করতে পারবেনÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোজা রেখে গরমে এমনিতেই খুব কষ্ট হচ্ছে, তারপর রাস্তার যে অবস্থা। ইফতার কোথায় সারতে পারব বুঝতে পারছি না।
রাজধানীর এই যানজটের কারণ জানতে বিকেল ৪টার দিকে কথা হয় তেজগাঁও লিঙ্ক রোড এলাকায় দায়িত্বরত এক ট্রাফিক কর্মকর্তার সঙ্গে। দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, বিকেল ৩টার পর থেকেই যানজট বাড়তে থাকে, পরে চার দিকের রাস্তাই বন্ধ হয়ে যায়। ইফতারের আগে প্রায় প্রতিদিনই এমন হয়। যানজট কমানোর জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
