পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি ফেনীর নতুন পুলিশ সুপারের

আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ০১:৩৮ এএম

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলাটির নতুন পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান।

বুধবার ফেনীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এমন আশ্বাসের কথা শোনান তিনি। নুসরাত হত্যাকাণ্ডে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় এর আগে গত ১২ মে ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে শাস্তিমূলক প্রত্যাহার করে পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।        

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নতুন পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ফেনী জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি যেটুকু ক্ষুন্ন হয়েছে কাজের মাধ্যমে তা উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। সন্ত্রাসী, জঙ্গি, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নয়, তাদের বিরুদ্ধে ফেনী পুলিশের জিরো টলারেন্স অবস্থান থাকবে। অন্যায়কারীকে কোনো ধরনের প্রশয় দেওয়া হবে না। এজন্য সাংবাদিকদেরও সহযোগিতা কামনা করছি।’

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ খালেদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নুসরাত হত্যায় পুলিশের গাফিলতি তদন্তে গত ১৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক এসএম রুহুল আমিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের গঠিত ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং এসআই ইকবালকে সাময়িক বরখাস্ত ও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও এসআই আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও তাদের নন-অপারেশনাল ইউনিটে বদলির সুপারিশ করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এসআই ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় এবং এসআই ইকবাল আহাম্মদকে খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার অনুসারীরা। সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তারা এ ঘটনা ঘটায়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় নুসরাত। এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া এবং মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত