রপ্তানিযোগ্য পোশাক ছিনতাইয়ের অভিযোগে রূপগঞ্জ থেকে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের জেরে উত্তেজিত হয়ে উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এসময় তারা বেশ কিছু যানবাহনের ভাঙচুর চালায়।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে তাদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ৩৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩টি মোটরসাইকেল, দেশীয় অস্ত্রসহ দু’দফায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেন।
বুধবার রাতে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কর্ণগোপ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্রগ্রাম বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, গত ২ দিন আগে ঢাকার আশুলিয়া থেকে কাভার্ড ভ্যানভর্তি রপ্তানিযোগ্য পোশাক চট্রগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।
মালামাল বন্দরে পৌঁছালে জানা যায়, গাড়ি থেকে ৩০ লাখ টাকার কাপড় সরিয়ে ফেলা হয়েছে। গাড়ির চালক ও হেলপারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ভিপি সোহেলের লোকজন চালকের সহায়তায় রূপগঞ্জের কর্নগোপ এলাকার বায়ো ফার্টিলাইজার সার কারখানার ভেতর গাড়ি ঢুকিয়ে উক্ত মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন।
এই ঘটনায় কারখানার ব্যবস্থাপক কায়সার রহমান চট্রগ্রাম বন্দর থানায় মামলা দায়ের করলে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় বুধবার রাতে চট্রগ্রামের পুলিশ মিরকুটিরছেও এলাকায় ভাইস চেয়ারম্যান ভিপি সোহেলের নুহা পল্লী থেকে মামলার আসামি সরকারী মুড়াপাড়া কলেজে শাখার ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সজিবসহ তার সহযোগী মনিরুল ইসলাম, নবিরুদ্দিন, জৈব সার কারখানার সিকিউরিটি তোতা মিয়া, সুমন, ও সিপন হোসেন নামে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেন।
এদিকে সজিবসহ বাকিদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৬০/৭০ জন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থান নেয়।
তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
এসময় তারা ৮/১০টি যানবাহন ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ৩৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে ।
এ ঘটনায় পুলিশ ব্লক রেইট দিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মোবারক হোসেন, ওয়াদুদ, রাশেদুল, হাসান, ইরফান, রাহাত ও সাইদুলকে গ্রেপ্তার করেন।
এসময় তাদের ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহামুদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সড়ক অবরোধ করে যানবাহন ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ৩৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ৪ টি মোটর সাইকেলসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
