বগুড়া জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখ্যান করে গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করছে একাংশের নেতাকর্মীরা। এর আড়াই ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়কের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশের পর সংক্ষিপ্ত সভা করেন। এদিকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১০ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের মধ্যে বিএনপি ও যুবদলের আটজনকে বহিষ্কার ও ছাত্রদলের দুজনের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।
গত বুধবার দুপুরে বগুড়া জেলা বিএনপির ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের মহাসচিব অনুমোদিত ওই কমিটিতে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সাবেক সাংসদ জি এম সিরাজকে আহ্বায়ক এবং বগুড়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি ফজলুল বারী তালুকদার বেলালকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদ্যঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল দাবি এবং আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। তার শহরের নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে তালা দেয় এবং পরে কার্যালয়ের সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে নেতৃত্ব দেওয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুল আলম পিপলু বলেন, ‘জিএম সিরাজ ছিলেন সংস্কারপন্থি নেতা। দলের জন্য তার কোনো শ্রম বা ত্যাগ নেই; অপর দুই যুগ্ম আহ্বায়কও দলের জন্য কিছু করেননি। এ কারণে দলের ত্যাগী নেতারা তাদের মেনে নেবেন না।’
এরপর রাত ১১টার দিকে নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও ফজলুল বারী তালুকদার বেলালের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সংক্ষিপ্ত সভা করে। সাইফুল ইসলাম নেতাকর্মীদের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে আহ্বায়ক কমিটি কার্যালয়ে বসে দলীয় কর্মকাণ্ড শুরু করবে।’ এ সময় কমিটির সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রেজাউল করিম বাদশা, আলী আজগর তালুকদার হেনা প্রমুখ। আধঘণ্টা পর নতুন তালা ঝুলিয়ে কার্যালয় ত্যাগ করেন তারা।
এরপর আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা শহরের সূত্রাপুর রিয়াজ কাজী লেনে সাবেক সাংসদ ও কমিটির সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর বাসভবনে গিয়ে বৈঠকে বসেন। পরে রাত ১২টার দিকে আহ্বায়ক কমিটি বিরোধী গ্রুপের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই বাসভবনের সামনে থাকা মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করেন।
একপর্যায়ে ভেতরে থাকা নেতাকর্মীরা বেরিয়ে ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায় তারা।
কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়ে জেলা কমিটির নতুন আহ্বায়ক জি এম সিরাজ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে জেলার আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে। এ বিষয়ে কারও অভিযোগ-অনুযোগ থাকলে তারা বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের বলতে পারতেন অথবা আমাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে কিছু নেতাকর্মী অনাকাক্সিক্ষতভাবে বিশৃঙ্খল আচরণ করেছেন। বিষয়টি জানার পর কেন্দ্রীয়ভাবে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, কার্যালয়ে তালা দেওয়া, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং নতুন কমিটির সদস্যের বাসভবনে হামলা-ভাঙচুরসহ দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বুধবার রাতেই ১০ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের মধ্যে বিএনপি ও যুবদলের আটজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে; তারা হলেনÑ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু, সাবেক তাঁতি বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বিটু, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ রানা মাসুদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুম্মান আলী শেখ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোমিন আকন্দ এবং যুবদলের সদস্য বুলবুল হোসেন ও আবদুল্লা আল মামুন রাজীব। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু জাফর জেমস ও সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম আউয়ালের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ স্থগিত করা হয়েছে।
