পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিনসিটি আবাসন পল্লীর আসবাব কেনা ও তা ভবনে তোলায় দুর্নীতির অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।
কার্যতালিকায় এলে সোমবার সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের গ্রিনসিটি আবাসন পল্লীর ভবনের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ও তা ভবনে তোলায় অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তর-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
রিটকারী আইনজীবী সাইয়্যেদুল হক সুমন জানান, ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
সাইয়্যেদুল হক সুমন বলেন, ‘ওই প্রকল্পের গ্রিনসিটি আবাসন পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য যে ভবন, সেখানকার ফার্নিচার থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিস অস্বাভাবিক দামে কেনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তা ভবনে তোলায়ও অস্বাভাবিক খরচ দেখান হয়েছে’।
‘রিট আবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছি, এটি তদন্তের জন্য একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হোক, যাতে বোঝা যাবে আসলে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং কারা দায়ী।’
তিনি বলেন, ‘গণপূর্ত অধিদপ্তর এ ঘটনার তদন্ত করবে বলে জেনেছি। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারাই যদি তদন্ত করে তাহলে তদন্ত কার্যক্রম বিশ্বাসযোগ্য হবে না। এ জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন। বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর বেঞ্চে এটি সোমবারের কার্যতালিকায় আসবে এবং শুনানি হবে।’
দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিনসিটি আবাসন পল্লীতে ২০তলা ১১টি ও ১৬তলা আটটি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০তলা আটটি ও ১৬তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে বালিশ ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা।
প্রতিটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর খাট ওপরে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।
প্রতিটি টেলিভিশন কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা। আর টেলিভিশন ওপরে ওঠাতে দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৩৮ টাকার খরচ। বিছানার খরচ ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দেখানো হয়েছে। তা ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা।
প্রতিটি ওয়ার্ডরোব কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা। আর তা ওঠাতে দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকার খরচ।
এ রকম বৈদ্যুতিক চুলা, বৈদ্যুতিক কেটলি, রুম পরিষ্কারের মেশিন, ইলেকট্রিক আয়রন, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি কেনাকাটা ও ভবনে তুলতে অস্বাভাবিক খরচ দেখান হয়েছে।
