ঈদে রেলে থাকছে ৮০৩ কোচ, প্রস্তুত বাসও

আপডেট : ২১ মে ২০১৯, ০৪:০৭ এএম

এবার ঈদে ৮০৩টি কোচে (গাড়ি) ঘরমুখো মানুষদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এ উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামীকাল (বুধবার), চলবে ২৬ মে পর্যন্ত। ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে ২৯ মে-২ জুন পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রতিদিন ২০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে। একইভাবে প্রতিদিন ছয় শতাধিক বাসে ৩০ হাজারেরও বেশি যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহন করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মো. মহিউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এবার ঈদে ৮০৩ কোচ/গাড়িতে যাত্রী পরিবহন করবে। এগুলোর মধ্যে ৭৩০টি কোচ ভালো আছে। পুরনো ৭৩টি কোচ কারখানায় জোরেশোরে মেরামতের কাজ চলছে।

সরেজমিনে পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, জেনারেল ওভার হোলিং শপ, ক্যারেজ শপ, বগি শপ, পেইন্ট শপসহ প্রায় সবখানেই শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মব্যস্ত। বিভিন্ন ইয়ার্ডে জোরেশোরে চলছে পুরনো বগি মেরামতের কাজ। ১৮টি শপে কেউ করছেন ওয়েল্ডিং, কেউ প্লেট কাটা এবং কেউ কেউ বগিতে রং লাগাচ্ছেন। কারখানার কর্মব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, রমজানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪৫টি কোচের মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ মে’র মধ্যে বাকি কোচগুলোর মেরামত কাজ শেষ হয়ে যাবে।

রেল কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত প্রতিটি ট্রেনে ১৬টি বগি থাকে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে যাত্রীর চাপ সামলাতে এবার চারটি করে বাড়তি বগি যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি ট্রেনে ১২০০-১৪০০ যাত্রী পরিবহন করা যাবে। এবারের ঈদে রেলের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে থাকছে ১২টি বিশেষ ট্রেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রীবহনে ১৩৮টি বগি সংযুক্ত করা হবে।

তারা আরও জানান, ঈদের অগ্রিম টিকিট নিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ৫০ শতাংশ অনলাইনে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; থাকছে অধিকসংখ্যক কাউন্টার। এছাড়া টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গত শুক্রবার। প্রথম দিন সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল ৩০ মে থেকে ৩ জুনের টিকিটের। অনেকে কাক্সিক্ষত সময়ের না পেয়ে ৪ জুনের টিকিটও কেটেছেন। বর্তমানে কাক্সিক্ষত সময়ের কোনো অগ্রিম টিকিট নেই।

নগরের কদমতলী ও বিআরটিসি বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, গ্রিন লাইন, সৌদিয়া, শ্যামলী, এস আলম, শাহ আমিনসহ বিভিন্ন পরিবহনের এসি বাসগুলোর ৩০ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। গ্রিন লাইনের কর্মকর্তা সাইফুর আহমদ জানান, এরই মধ্যে ঈদের অগ্রিম সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এবার টিকিট বিক্রিতে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়া হয়নি। আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব কফিলউদ্দিন আহমেদ জানান, ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন পরিবহনের ছয় শতাধিক বাসে প্রতিদিন ৩০ হাজারেরও বেশি  যাত্রী পরিবহন করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে বাসে ঈদযাত্রায় বেশি চাহিদা থাকে বৃহত্তর নোয়াখালী, ঢাকা এবং কুমিল্লায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত