বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ কয়েক দফা দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন পাটকল শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট মিলের শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। খুলনার পাটকল শ্রমিকরা গত ১৫ দিন ধরে যে সড়ক-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন তাও চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আগামীকাল বুধবার খুলনার শ্রমিকরা সড়ক-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন সকালে।
জানা গেছে, গত রবিবার ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ কার্যালয়ে বৈঠক করে নয় দফা দাবিতে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিক নেতারা বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সড়ক-রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শ্রমিক নেতারা জানান, নয়টি পাটকলে ১৪ হাজার ৫২৫ জন স্থায়ী, ১৮ হাজার অস্থায়ী এবং ৫২২ জন বদলি শ্রমিকসহ ৩৩ হাজার ৪৭ জন শ্রমিক এবং ১ হাজার ১৮৭ জন কর্মচারী কর্মরত। শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ১২ সপ্তাহের মজুরি ও বেতনসহ প্রায় ৬৫ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে শুধু শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা রয়েছে ৫৮ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গত চার মাসে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা বকেয়া।
এই বকেয়া বেতনের দাবিতে গত ৫ মে থেকে মিলগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রেখে সড়ক-রেলপথ অবরোধ এবং রাজপথে ইফতার কর্মসূচি পালন করে আসছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা।
পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, গত রবিবার বেলা ১১টায় ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, নয় দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে ফিরে যাবেন না। তাতে যতদিন আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় ততদিন করবেন।
এদিকে বকেয়া তিন মাসের বেতন ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট মিলের শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মিল চত্বরে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। এ সময় বক্তারা আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও এই কমিশন অনুযায়ী উৎসব ভাতার দাবি জানান। এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেবেন বলে ঘোষণা দেন। এ কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আবদুল খালেক, জাতীয় জুট মিলস শ্রমিকদের সভাপতি আওরঙ্গ আজিজ স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
