গোপালগঞ্জে বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীকে ভুল ইনজেকশন

নার্স চিকিৎসকের শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ২৪ মে ২০১৯, ১২:৪৩ এএম

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ছাত্রী মরিয়ম সুলতানা মুন্নিকে ভুল ইনজেকশন প্রদানকারী নার্স শাহনাজ ও কর্তব্যরত চিকিৎসক তপন কুমার ম-লের স্থায়ী চাকরিচ্যুত দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ‘জবাব চাই জবাব দাও’, ‘কসাই নার্সের বিচার চাই’, ‘আমরা বাঁচতে চাই’ লেখা সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান।

পিত্তথলিতে পাথরজনিত কারণে মুন্নিকে গোপালগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার তপন কুমার ম-লের কাছে দেখানো হয়। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ওই শিক্ষার্থীর অপারেশন করার দিন ধার্য ছিল। ওইদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের নার্স শাহনাজ ওই ছাত্রীকে গ্যাসের ইনজেকশনের পরিবর্তে ভুল করে অচেতন করার ইনজেকশন দেন। এরপর ওই শিক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে খুলনার আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত বুধবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সমাজবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, ‘গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা একটি সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে। শুধু অবহেলার কারণে মুন্নি আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অথচ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলছে এটা সাধারণ ঘটনা। তাদের মতে এমনটি ঘটতেই পারে! হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের এমন আচরণে আমরা লজ্জিত। আমরা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছেন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এদিকে ৪৮ ঘণ্টায়ও জ্ঞান ফেরেনি মুন্নির। তার বড় ভাই হাসিবুল হাসান জানিয়েছেন, ‘মুন্নির শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। চিকিৎসক বলেছেন, ৭২ ঘণ্টার আগে কিছুই বলা যাবে না।’

গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাক্সিক্ষত। শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। ওই নার্স দোষীসাব্যস্ত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতে ওই ছাত্রীর চাচা জাকির হোসেন বিশ্বাস বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক তপন কুমার ম-ল, নার্স শাহনাজ ও কুহেলিকাকে অভিযুক্ত করে সদর থানায় মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত