দাকোপের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করুন

আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ১১:৩৩ পিএম

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হেনেছিল ১০ বছর আগে। ২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনা উপকূলে আঘাত হানা আইলায় ১৯৭ জন নিহত হয়, আহত হয় প্রায় ৭ হাজার মানুষ। এতে সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা ও দাকোপ উপজেলার উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ল-ভ- হয়ে যায়।  এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি আর হতাহতের ঘটনা ঘটে খুলনার দাকোপ ও কয়রা উপজেলা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়। এই ঘূর্ণিঝড়ে খুলনা ও সাতক্ষীরার প্রায় ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে দেড় লাখ একর জমি প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল।

গত এক দশকে উপকূলীয় এলাকায় আইলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা ও পুনর্বাসনে নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি নানা সংস্থাও আইলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। এছাড়া ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের অনেকগুলো প্রকল্প এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং কয়েকটি প্রকল্প এখনো চলছে। কিন্তু খুলনার দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের ৯৫০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেওয়ার পর এক দশক পেরিয়ে গেলেও তাদের কোথাও পুনর্বাসন করা হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এভাবে বাঁধে বাসা বেঁধে বসবাস করা পরিবারগুলোর সদস্যরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

খুলনা জেলার মধ্যে বেড়িবাঁধের দাকোপের ৩২ নম্বর পোল্ডার এলাকাটি আইলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই পোল্ডার সুতারখালী ও কামারখোলা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মূলত নলীয়ান ও শিবসা নদীর সংযোগস্থলের বাঁধ ভেঙে ওই এলাকাটি প্লাবিত হয়। সেই সময় ওই এলাকার বেশিরভাগ বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি আটকে থাকায় গাছপালাও মরে যায়। পানি আটকে থাকে প্রায় আড়াই বছর। ফলে অনেক মানুষ চলে যায় এলাকা ছেড়ে। ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার করার পর পানি কমতে শুরু করলে মানুষ আবার নিজেদের মতো করে ঘর বাঁধতে শুরু করে। কিন্তু সুতারখালী ও কামারখোলা ইউনিয়নের এই ৯৫০টি পরিবারের আর কোথাও ফিরে যাওয়ার জায়গা নেই। কেননা আইলায় তাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়িঘর হারানো অনেক পরিবার আইলার পর এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও এই পরিবারগুলোর সেই সামর্থ্যও নেই।

শনিবার দেশ রূপান্তরে ‘দাকোপে বাঁধে ৯৫০ পরিবারের বসবাস’ শিরোনামে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। দাকোপের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শেখ আবদুল কাদের দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘কামারখোলার ১৫০টি ও সুতারখালীর ৮০০টি পরিবার আইলায় বাড়িঘর হারিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছে। জায়গাজমি না থাকায় তারা ফিরতে পারছে না। একই কারণে তাদের সরকারি কোনো উন্নয়নের আওতায় আনা যাচ্ছে না।’ আমাদের কথা হলো, এমন ভিটেমাটি-জমিজিরেত হারানো মানুষদেরই তো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা।  বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেওয়া এই পরিবারগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন না হওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা দায়ী বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভিটেমাটি হারানো মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি খাসজমি বরাদ্দ দেওয়ার কথা উচ্চারিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তারাও এমন আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দশ বছর ধরে দাকোপের এই ৯৫০টি পরিবারের কোনো ধরনের পুনর্বাসন না হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবারগুলোকে অবিলম্বে পুনর্বাসন করা হোক। পাশাপাশি পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত এই পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে বিশেষ সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত