পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক কয়েকটি ম্যালওয়্যার বহন করা একটি ল্যাপটপ নিলামে ৯ কোটি টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০০৮ সালে তৈরি স্যামসাংয়ের এই ল্যাপটপটিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলা হচ্ছে।
‘The Persistence of Chaos’ নামের একটি নিলামে ওই ল্যাপটপটি তোলা হয়। নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘Deep Instinct অনুমোদনে নিলামের আয়োজন করেন ইন্টারনেট শিল্পী বলে পরিচিত গুও ও ডং।
ওই কোম্পানিটি গুও’কে ম্যালওয়্যারগুলো সরবরাহ করেছে। পৃথিবীজুড়ে সাইবার অ্যাটাকের ক্ষতি কমাতে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এটি করে তারা।
এই ল্যাপটপে ‘Wanna Cry’ র্যানস্যামওয়্যার আছে। এটি ব্যবহার করে ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়। একই বছর মে মাসে ১৫০টি দেশের প্রায় ২ লাখ কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নেয় হ্যাকাররা।
এই Malicious Software তথা ম্যালওয়্যার হলো এমন কিছু সফটওয়্যার যা মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। সহজ ভাষায় আপনি একে ‘দুষ্ট’ সফটওয়্যার বলতে পারেন, যে দুষ্টুমির ছলে আপনার মারাত্মক ক্ষতি করে যায়। প্রযুক্তি জগতে বেশ কয়েক প্রকার ম্যালওয়্যার রয়েছে। তার মধ্যে ভাইরাস, ট্রোজান, স্পাইওয়্যার, র্যানস্যামওয়্যার এবং ওয়ার্ম বেশি পরিচিত।
ল্যাপটপটিতে ‘ILOVEYOU’ নামের আরেকটি কুখ্যাত ভাইরাস আছে। এটি মূলত ইমেইল দিয়ে ছড়ানো হয়।
অন্য চারটি ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার হলো MyDoom, SoBig, DarkTequila Ges BlackEnergy। এগুলো দিয়ে বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীজুড়ে আলোচিত সব হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটানো হয়।
গুও জানিয়েছেন, নিলামে তোলা ল্যাপটপটি এখন আর বিপজ্জনক নয়। এটি এয়ার-গ্রাফড, অর্থাৎ সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত নয়। যার কারণে অন্য নেটওয়ার্কে ভাইরাস ছড়াবে না।
শুধু তাই নয়, নিলামে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়ার আগে এর ইন্টারনেট সক্ষমতাও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
