ভালো-মন্দে উত্থান: শাকিব খানের ২০ বছরের আমলনামা (২)

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ১১:৪৯ পিএম

[ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় তারকা শাকিব খান জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুর রব ছিলেন একজন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী ও মাতা নূরজাহান একজন গৃহিণী। ১৯৯৯ সালে ‘অনন্ত ভালোবাসা ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে রূপালি জগতে তার অভিষেক ঘটে। যদিও আফতাব খান টুলু পরিচালিত ‘সবাইতো সুখী হতে চায়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায় ২০০০ সালে। এতে তার বিপরীতে ছিলেন আরেক নবাগত কারিশমা শেখ। ২৮মে এই তারকার অভিনয় জীবনের ২০ বছর পূর্ণ হলো। শাকিব খানের অভিনয় জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে দেশ রূপান্তরের বিশেষ আয়োজন। আজ থাকছে তার দ্বিতীয় পর্ব।]

প্রথম পর্বের লিংক: ভালো-মন্দে উত্থান: শাকিব খানের ২০ বছরের আমলনামা 

২০০৮: মান্নার মৃত্যু, শাকিবের বর লাভ

কথায় বলে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। ২০০৮ সালে নায়ক মান্না ও শাকিব খানের জন্য এই প্রবাদটি বাস্তব হয়ে ধরা দিল। এই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সে সময়ের নাম্বার ওয়ান নায়ক মান্না। তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের হঠাৎ মৃত্যুতে থমকে যায় পুরো ইন্ডাস্ট্রি। মান্নার মৃত্যু হল মালিকদের মাঝে শঙ্কা তৈরি করে। শুধু তাই নয়, মান্নার মৃত্যুর কয়েক বছরের মধ্যেই প্রচুর হল বন্ধ হয়ে যায়। বলা যায় হল বন্ধের হিড়িক পড়ে মান্নার মৃত্যুর পরপরই, সেই হিড়িক থামেনি এখনো।

এদিকে মান্নার মৃত্যু শাকিবের জন্য বর হয়ে আসে। কারণ মান্নার মৃত্যু ইন্ডাস্ট্রিতে যে শূন্যতা তৈরি করে তা পূরণ করার মতো কোনো নায়ক সে সময় ছিল না। রিয়াজ-ফেরদৌসসহ অন্য নায়কদের হাতে তখন কাজ কমে আসছে। কেউ বা কাজ করেন কালেভদ্রে। ফলে শাকিব খান চলে আসেন লাইম লাইটে। এ বছর মুক্তি পাওয়া তার ছবিগুলোও বেশ ভালো ব্যবসা করে। এই বছর তার সর্বাধিক ১২টি ছবি মুক্তি পায়। এ ছবিগুলো হলো- ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘তোমাকে বউ বানাবো’, ‘আমাদের ছোট সাহেব’, ‘আমার জান আমার প্রাণ’, ‘সন্তান আমার অহংকার’, ‘তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা’, ‘১ টাকার বউ’, ‘যদি বউ সাজো গো’, ‘টিপ টিপ বৃষ্টি’, ‘ভালোবাসা দিবি কিনা বল’, ‘মনে প্রাণে আছ তুমি’, ‘তুই যদি আমার হইতিরে’।

এই ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করে বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’। ছবিটি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।

পরের বছর তথা ২০০৯ সালেও তার ১৫-১৬টি ছবি মুক্তি পায়। এ ছবিগুলোও ভালো ব্যবসা করে। শাকিব খানের ওপর ভরসা করতে শুরু করেন প্রযোজক-পরিচালকরা। এ বছর থেকেই শাকিব খানের একক রাজত্বের আভাস পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো হচ্ছে- ‘মনে বড় কষ্ট’, ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’, ‘ভালোবাসার লাল গোলাপ’, ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’, ‘জান আমার জান’, ‘সবার উপরে তুমি’, ‘ও সাথিরে’, ‘মিয়া বাড়ির চাকর’, ‘বলব কথা বাসর ঘরে’, ‘জন্ম তোমার জন্য’, ‘প্রেম কয়েদী’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’, ‘বলনা কবুল’, ‘কথা দাও সাথী হবে’, ‘বিয়ে বাড়ী’, ‘সাহেব নামের গোলাম’, ‘স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা’,।

 

২০১০ : একক রাজত্বে পা

২০১০ সাল। শাকিব খানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর তার ক্যারিয়ার ১০ অতিক্রম করে ১১তে পা দেয়। ক্যারিয়ারের ১১ বছরে এসে বেজোড় গুণিতক ১১-এর মতোই শাকিব খানও দুই পায়ে ভর করে একাকী দাঁড়িয়ে যান। শুরু হয় তার একক রাজত্ব। কারণ এই বছরে এসে শাকিব খানকে টেক্কা দেওয়ার মতো আর কোনো নায়ক ছিল না। যদিও এ বছরেই ডিজিটাল চমক হাজির করে ইন্ডাস্ট্রিতে অনন্ত জলিলের আগমন ঘটে। কিন্তু তাতে কি, কাকরাইল কেন্দ্রিক সিনেমা সিস্টেমের একক নায়ক হিসেবে শাকিব খানই টিকে থাকেন। কারণ অনন্ত জলিল ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচনার জন্ম দিলেও তার নিজের প্রোডাকশন হাউসের বাইরে কাজ করেননি। একক নায়ক হিসেবে তার যাত্রার বছর বেশ ভালোই ছিল। এ বছর থেকেই তার নামে ছবি বানানো শুরু হতে থাকে। বদিউল আলম খোকন নির্মাণ করেন ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’। ফলে শুধু কাজে নয়, তিনি যে এক নাম্বার তা পরিচালকরা তাদের ছবির মাধ্যমে পর্দাতেও হাজির করেন। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো হলো- ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না    ’, ‘প্রেমে পড়েছি’, ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’, ‘নিশ্বাস আমার তুমি’, ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’, ‘টপ হিরো’, ‘বল না তুমি আমার’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, ‘হায় প্রেম হায় ভালোবাসা’, ‘প্রেম মানে না বাধা’।  এই বছর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ ও বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’ ছবিটি ব্যবসা সফল হয়। এর মধ্যে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে তোলেন শাকিব খান।

২০১১ সালে শাকিব খান অভিনীত ‘কোটি টাকার প্রেম’, ‘মাটির ঠিকানা’, ‘কিং খান’, ‘মনের জ্বালা’, ‘আদরের জামাই’, ‘বস নাম্বার ওয়ান’, ‘টাইগার নাম্বার ওয়ান’, চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পায়।

২০১২ সালে মুক্তি পায় ‘সে আমার মন কেড়েছে’, ‘বুক ফাটে তো মুখ ফুটেনা’, ‘এক টাকার দেনমোহর’, ‘মাই নেম ইজ সুলতান’, ‘ডন নাম্বার ওয়ান’, ‘খোদার পরে মা’, ‘ঢাকার কিং’। ২০১৩ সালে মুক্তি পায় ‘ঢাকা টু বোম্বে’, ‘ফুল এন্ড ফাইনাল’, জোর করে ভালোবাসা হয় না, ভালোবাসা আজকাল, নিষ্পাপ মুন্না, জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার, দেবদাস, মাই নেম ইজ খান, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি। এ বছর মুক্তি পাওয়া ‘খোদার পরে মা’ চলচ্চিত্রের জন্য শাকিব খান দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৪ সালে মুক্তি পায় ‘রাজত্ব’, ‘ফাঁদ - দ্য ট্র্যাপ’, ‘সেরা নায়ক’, ‘ডেয়ারিং লাভার’, ‘কঠিন প্রতিশোধ’, ‘হিটম্যান, হিরো: দ্য সুপারস্টার’। এ বছরই প্রথমবার প্রযোজনার খাতায় নাম লেখান শাকিব খান। এস কে ফিল্মসের ব্যানারে নির্মাণ করেন বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘হিরো: দ্য সুপারস্টার’। ২০১৫ সালে তার অভিনীত ‘এইতো প্রেম’, ‘আরও ভালোবাসব তোমায়’, ‘দুই পৃথিবী’, ‘লাভ ম্যারেজ’, ‘রাজা বাবু’ মুক্তি পায়।

টিকে থাকার রাজনীতি

২০০৬ সাল থেকেই শাকিব খান বুঝতে শুরু করেন তার ওপর পরিচালক প্রযোজকেরা ভরসা করা শুরু করেছেন। তার মতামতের গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে শাকিব খান হয়ে ওঠেন কৌশলী। টিকে থাকার লড়াইয়ে কৌশলী হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই তার……

(চলবে)

[বি:দ্র: শাকিব খানকে নিয়ে বিশেষ আয়োজনের তৃতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে শুক্রবার।]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত