আল কুদস দিবস ও জুমাতুল বিদা

আপডেট : ৩১ মে ২০১৯, ১২:৩৭ এএম

চলতি রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আজ। মুসলিম বিশ্বে রমজান মাসের শেষ শুক্রবারটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম বিশ্ব রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে আল কুদস দিবস হিসেবে পালন করে। আর বাংলাদেশে রমজান মাসের শেষ জুমাকে জুমাতুল বিদা হিসেবে পালন করা হয়। ইসলামে জুমাতুল বিদা বিষয়ে সরাসরি গুরুত্ব বহনকারী কোনো বক্তব্য নেই। তবে হ্যাঁ, ইসলামে আলাদাভাবে শুক্রবারের বিভিন্ন ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। যেমন হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সঙ্গে একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহতায়ালার কাছে কিছু চায়, আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন।’ সহিহ বোখারি ইসলামী স্কলাররা ওই সময় সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। কোনো কোনো বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত।’ সহিহ মুসলিম

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, ‘শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়।’ বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মায়াদে বর্ণিত আছে, জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। জুমার দিনের বিশেষ সেই মুহূর্ত সম্পর্কে বলা হয়েছে, জুমার নামাজে সুরা ফাতিহার পর আমিন বলার সময়, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়, মুয়াজ্জিন আজান দেওয়ার সময়, জুমার দিন সূর্য ঢলে পড়ার সময়, ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে দাঁড়ানোর সময়। উভয় খুতবার মধ্যবর্তী সময় ও জুমার দিন ফজরের আজানের সময়। সুতরাং শুক্রবারের আলাদা গুরুত্বের কথা স্বীকৃত, কিন্তু জুমাতুল বিদার কোনো আলাদা ফজিলতের কথা কোথাও বলা হয়নি। এটাকে ইসলামী স্কলাররা সমর্থন করেন না। অন্যদিকে রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ফিলিস্তিন ও পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দাসের দখলদার ইহুদিদের হাত থেকে মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা মসজিদকে মুক্ত করার জন্য মুসলমানদের জাগিয়ে তোলা এ দিবসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

জেরুজালেম শহরের অপর নাম ‘কুদস’ বা ‘আল কুদস’। জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মোকাদ্দাস হলো মুসলমানের প্রথম কেবলা। মুসলিম ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অসংখ্য নবী-রাসুলের (সা.) পদধূলিতে ধন্য এই নগরী। মিরাজ রজনীতে এই মসজিদেই হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সব নবীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নামাজের ইমামতি করেছিলেন। হজরত সোলায়মান (আ.) সর্বপ্রথম এই মসজিদ নির্মাণ করেন। অসংখ্য নবী-রাসুলের দাওয়াতি মিশন পরিচালিত হয়েছে এই মসজিদকে কেন্দ্র করে। জেরুজালেম নগরী বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান। সব ধর্ম-বর্ণ, জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এই নগরীকে শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু আফসোসের বিষয় বায়তুল মোকাদ্দাস ও জেরুজালেম নগরীতে মুসলমানদের অবাধ বিচরণ নিষিদ্ধ। নিজেদের পবিত্র স্থানে যেতে তারা বাধাপ্রাপ্ত হয় প্রতিনিয়ত। বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদীদের সূক্ষ্ম চালের কারণে ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। সারা বিশ্বের মুসলমানরা তাকিয়ে আছেন ফিলিস্তিনের দিকে। কবে মুক্ত হবে আল কুদস। কবে মুসলমানরা আবার তাদের পুণ্যস্থান বায়তুল মোকাদ্দাসে স্বাধীনভাবে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারবেন। কুদস দিবস মুসলমানদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারের চেতনাকে ক্রমেই শানিত করছে। মূলত আল কুদস দিবস এক মহাজাগরণের দিন। যে জাগরণের মূল চেতনা হলো মুসলিম ঐক্য।

লেখক : মুফতি, শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক লেখক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত