ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা যে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তা মাসের হিসাবে তাতে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত মে মাসে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে, তা মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে, ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর প্রবাসী আয় এমনিতেই ভালো ছিল। জানুয়ারি থেকেই সেটা দেখা যাচ্ছে। এখন ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন। এরফলে মে মাসে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড হয়েছে। যে হারে রেমিট্যান্স বাড়ছে, তাতে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন (১ হাজার ৬০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এটি হলে বছরের হিসাবেও রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ড হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত দুই বছর ধরেই প্রবাসী আয় বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট ১ হাজার ৫০৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি ছিল। স্থানীয় বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে গতকাল প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। গত এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় বড় অংকের ঘাটতিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ ঘাটতি পূরণে প্রধান ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। বর্তমানে ৮০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। প্রবাসী আয় বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও গত কয়েক বছর ধরে সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গতকাল সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসী আয় বাড়ার কারণে গত ৭ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
