বিভিন্ন বাস কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঢাকায় ফেরার পথে অনেক বাস মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়েছে। অন্যদিকে টার্মিনালে বিভিন্ন কোম্পানির কিছু বাস থাকলেও যানজটে পড়ার কথা ভেবে সেগুলোও ছাড়া হচ্ছে না।
সোমবার অফিস খোলা থাকায় অনেকেই মঙ্গলবার সকাল সকাল হাজির হন গাবতলী ও মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে।
মহাখালী টার্মিনালে বিউটি আক্তার নামের একজন বলেন, ‘সকাল ৭টায় এসে বসে আছি। এনা পরিবহনের বাসে ময়মনসিংহে যাব। কিন্তু বেলা দেড়টা পর্যন্ত যতগুলো বাস গেল, বলা হচ্ছে সেগুলো নাকি আগের সিরিয়ালের। আমাদের সিরিয়ালের গাড়িগুলো নাকি সড়কে কোথাও জ্যামে আটকা। কত ঘণ্টা যে বসে থাকতে হবে!’
মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জ শহরে চলছে অনন্যা পরিবহন, এ জেলার কটিয়াদী উপজেলায় চলছে উজান ভাটি পরিবহন।
কটিয়াদীগামী যাত্রী তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘টিকিট কাটছি আধা ঘণ্টা আগে। বাসও আছে টার্মিনালে। কোন দিকে নাকি জ্যাম লাগছে। তাই গাড়ি ছাড়তাসে না।’
সিলেট, চট্টগ্রামের পথ ঠিকঠাক থাকলেও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের খবর পাওয়া গেছে।
মহাখালীতে নওগাঁর শাহ ফতেহ আলী পরিবহন, সিরাজগঞ্জের এসআই পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপকরা জানান, গত সোমবার রাতে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো সকালেও ফিরে না আসায় তারা যাত্রী চাপ সামাল দিতে পারছেন না।
বগুড়াগামী একতা পরিবহনের কাউন্টার কর্মী দীন ইসলাম বলেন, ‘সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কমপক্ষে ১২-১৩টা গাড়ি ছাড়ার কথা। কিন্তু ছাড়তে পেরেছি মাত্র ৭টা।’
বঙ্গবন্ধু সেতুতে দীর্ঘ যানজটে আটকা গাড়িগুলো নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা পর এসে পৌঁছাচ্ছে বলে জানান তিনি।
দুপুর ১২টার পর মধুপুরের বিনিময় পরিবহন; ভৈরবের বাদশা, ঢাকা বস; টাঙ্গাইলের ঝটিকা; জামালপুরের রাজিব এন্টারপ্রাইজ; সিরাজগঞ্জের অভি এন্টারপ্রাইজ; শেরপুরের সাদিকা; রংপুরের এনা কাউন্টার বন্ধ পাওয়া যায়।
বাস সংকটের বিষয়ে মহাখালী বাস টার্মিনালে ভিজিল্যান্স টিমের সদস্য সচিব ইকবাল আহমেদ জানান, ময়মনসিংহ রুটে বাস সংকটের কারণে তারা বিআরটিসিকে দশটি ডাবল ডেকার দিতে অনুরোধ করেছেন।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘রাজশাহী, বগুড়ার দিকে যাওয়ার পথে জ্যাম আছে। তবে এই জ্যাম ছেড়ে গেলে যাত্রীরা নিরাপদে সবাই বাড়িতে পৌঁছাবেন। সিলেট, চট্টগ্রামের পথে কোনো জ্যাম নাই।’
