ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডার পর যাত্রীকে বাসচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ০৯:৩২ পিএম

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজারে বাসের ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডার জেরে এক যাত্রীকে বাসচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এতে সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ (৩৫) নামে ওই যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। 

এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হলেও চালক ও সহযোগীকে আটক করা যায়নি।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এঘটনা ঘটে। 

নিহত সালাউদ্দিন ঢাকার আলুবাজারের মৃত শাহাবউদ্দিনের ছেলে। 

তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকার আতাউর রহমান মেম্বারের বাড়িতে স্ত্রীসহ ভাড়া থাকতেন। স্থানীয় স্কটেক্স অ্যাপারিয়াল কারখানার গাড়িচালক ছিল।

বাসের চালক, হেলপার ও কন্ট্রাকটরের নাম-ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি।

নিহতের স্ত্রী পারুল আক্তার জানান, গত শুক্রবার ঈদের ছুটিতে স্বামীকে নিয়ে ময়মনসিংহের বাবার বাড়ি যান। রোববার সকালে স্বামীকে নিয়ে গাজীপুরের সদর উপজেলার বাঘের বাজারের ভাড়া বাড়িতে ফিরতে ময়মনসিংহ থেকে আলম এশিয়া নামের একটি বাসে ওঠেন। 

পথে বাসের ভাড়া নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বাসের সহকারীদের বিতণ্ডা হলে এক পর্যায়ে বাসের ভেতরেই সালাহ উদ্দিনকে মারধর করেন বাসের সহকারী। বিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনাটি মুঠোফোনে বাঘের বাজার এলাকার স্বজনদের অবহিত করেন। বাসটি বাঘের বাজারে পৌঁছলে সালাহ উদ্দিন দ্রুত নেমে যেতে চেষ্টা করেন। এসময় সালাহ উদ্দিনকে চাপা দিয়ে বাসটির চালক দ্রুতগতিতে বাসটি নিয়ে ঢাকার দিতে যেতে থাকেন।

পারুল আক্তার আরো জানান, সালাহ উদ্দিন যখন গাড়ি থেকে নেমে যান, ওই সময় তিনি নামতে চাইলেও চালকের সহকারীরা তাকে নামতে বাধা দেন। পরে তাকে নিয়েই গাড়িটি চলতে শুরু করে, এসময় তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে হোতাপাড়া ফু-ওয়াং কারখানার সামনে নিয়ে গাড়ির গতি কমিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন জানান, এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানা পুলিশের সহায়তায় গাড়িটি আটক করা হয়। মৃতদেহ ময়ানতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে বাসের চালক ও তার সহকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি।

নিহতের ভাই জালাল উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিত্রে আলম এশিয়া পরিবহনের চালক, হেলপার ও কন্ট্রাকটরের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত