দাদিকে কুপিয়ে খুন করে বাবা-মাকে জখম

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ০৪:২৯ পিএম

দাদিকে কুপিয়ে খুন করে একই অস্ত্র দিয়ে বাবা-মাকে জখম করে ফেসবুকে লাইভ করেছে ইন্দ্রনীল রায় (২৩) নামে এক যুবক। সোমবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলির ব্যান্ডেলের কেওটা শিবতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল রায় নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে হুগলির চুঁচুড়া থানার পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ধারণা, শ্রীরামপুর কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইন্দ্রনীল মানসিক অবসাদে আক্রান্ত।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানান, গ্রেপ্তারের পর ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে অসংলগ্ন উত্তর দিয়েছে পুলিশকে। কেন সে দাদিকে খুন করল বা বাবা-মাকে কুপিয়ে জখম করল কেন জানতে চাইলে- বিভিন্ন রকম অসংলগ্ন উত্তর দিয়েছে। কখনো বলেছে, ‘‘আমি তো মারিনি।’’ কখনো বিড় বিড় করে উচ্চারণ করেছে, ‘‘কতগুলো লোক ঘুরছিল বাড়ির বাইরে। ওরাই মেরেছে।’’

ছেলের হাতে জখম ইন্দ্রনীলের পিতা রেল-কর্মচারী বিশ্বজিৎ রায় জানান, দুই তলা বাড়ির উপরের তলায় একমাত্র ছেলে ইন্দ্রনীল তার দাদি আরতি রায়ের (৮৩) সঙ্গেই থাকতেন। স্ত্রী তাপসীকে নিয়ে নিচতলায় থাকতেন বিশ্বজিত।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সোমবার ভোরের দিকে দোতলার ঘর থেকে ধুপধাপ আওয়াজ এবং চিৎকার শুনতে পান বিশ্বজিৎ বাবু। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে যান। দোতলায় উঠতেই তার দিকে একটি ধারালো খুরপি নিয়ে এগিয়ে আসে ইন্দ্রনীল। সজোরে সেই খুপরি সে বসিয়ে দেয় বাঁ হাতে। বিশ্বজিৎ বাবুর চিৎকার শুনে তার স্ত্রী তাপসী দেবী উপরে ওঠেন। তাকেও খুরপি দিয়ে আক্রমণ করে ছেলে।

আক্রান্তদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীদের কয়েক জন চলে আসেন রায় বাড়িতে। তাপসী দেবী দরজা খুলে দেন। এর পর বিশ্বজিৎ বাবুকে একতলায় নামিয়ে এক প্রতিবেশী দোতলার সিঁড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। পরে খবর দেওয়া হয় চুঁচুড়া থানায়। তখনো তারা আরতি দেবীর খবর জানতেন না।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, খবর পেয়ে পুলিশ আসতে দেরি করে। ইতিমধ্যে দোতলা থেকে ছাদে উঠে যায় ইন্দ্রনীল। পাড়া-প্রতিবেশীরা তত ক্ষণে ভিড় জমাতে শুরু করেন রায়-বাড়ির সামনে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, ছাদে ঘুরে বেড়াচ্ছে ইন্দ্রনীল। নিচ থেকে পুলিশ কর্মীরা তাকে নেমে আসতে বললেও তাতে সে কোন সাড়া দেয়নি। এ পরিস্থিতিতে দমকল বাহিনীকে ডেকে আনা হয়। কিন্তু পুলিশের নির্দেশে দোতলার সিঁড়ির তালা খুলে দেওয়া হলে নিচে নেমে আসে ইন্দ্রনীল। একতলায় এসে সে মোবাইল বার করে গ্রিলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ এবং প্রতিবেশীদের তাক করে ফেসবুক লাইভ করতে থাকে। সঙ্গে চলতে তাকে অসংলগ্ন কথাবার্তা। যারা সেই সময় ওর ফেসবুক লাইভ দেখছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা চালাচালি করছিল ইন্দ্রনীল।এর পরেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

ছেলের খুরপির কোপে বাঁ হাত কেটে এবং ভেঙে গিয়েছে বিশ্বজিৎ বাবুর। বিশ্বজিৎ বাবু-তাপসী দেবীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত