হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় হদিস মেলে ইয়ারচাগুম্বা নামের ঔষধির।
শুঁয়োপোকার মতো দেখতে এই ছত্রাকটি।
প্রত্যেক গরমের মওসুমে হিমালয়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা এই ছত্রাক সংগ্রহ করতে নেমে পড়েন অনেকে।
এই ঔষধি ছত্রাক খুবই মুল্যবান। প্রতি গ্রাম ১০০ ডলার দামে মেলে এই ছত্রাক।
বাংলাদেশী মুদ্রায় গ্রাম প্রতি যার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার টাকার মতো।
এশিয়া এবং মার্কিন মুলুকে এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।
এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Ophiocordyceps sinensis।
হিমালয়ের বাসিন্দাদের বিশ্বাস, ইয়ারচাগুম্বা পানিতে ফুটিয়ে বা চা তৈরি করে সেই স্যুপ খেলে যাবতীয় রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
বিশেষ করে কাজ দেয় যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে। আর যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির গুণের জন্য ইদানিং এর নতুন নাম হয়েছে: ‘এশিয়ান ভায়াগ্রা’।
এই নামটি কেউ না দিলেও মুখে মুখে ছড়িয়ে যায়। এতে এর চাহিদা আরো বাড়ে বৈকি।
প্রাচীনকাল থেকেই ভারতভূমিতে চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে আসছে এই ছত্রাক। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য হিমালয়ান এই ছত্রাক এবার বিলুপ্তির পথে। এই ছত্রাকের ভবিষ্যত্ নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা।
ইয়ারচাগুম্বা নামে এই ছত্রাকজাতীয় উদ্ভিদের দখল নিয়ে বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে চীন ও নেপালের মধ্যে।
মার্কিন ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সের রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি বায়োলজিক্যাল কমোডিটির মধ্যে অন্যতম ইয়ারচাগুম্বা। এই ছত্রাকজাতীয় উদ্ভিদের দাম সোনার চেয়ে তিন গুণ বেশি।
ভারত, চীন, নেপাল, ভুটানে বহু প্রাচীনকাল থেকেই এটি এক জনপ্রিয় ওষুধ।
গত সপ্তাহতেই নেপালে ইয়ারচাগুম্বার ঔষধি ছত্রাক সংগ্রহ করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ৮ জন। এই ৮ জনের মধ্যে রয়েছে ১ শিশুও।
বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে দল্পা জেলায় এই ঔষুধি’ সংগ্রহ করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ৮ জনের।
মায়ের সঙ্গে থাকা একজন বাচ্চাও মৃতের মধ্যে ছিল। সেও সংগ্রহ করছিল ছত্রাক।
এদের মধ্যে ৫ জন গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
ফেসবুক থেকে নেয়া
